যশোরের অভয়নগর উপজেলার রানাগাতি মধ্যপাড়ায় চরমপন্থী বাহারুল মল্লিক (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বাহারুলকে হত্যার জন্য তার আপন ছোটভাই মামুন মল্লিক ৩ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া মূল কিলার আশরাফুল ইসলাম ছিলেন নিহত বাহারুল মল্লিকেরই ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পুলিশ তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় বলে জানিয়েছে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে আশরাফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণ দিহি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আশরাফুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আশরাফুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাহারুল মল্লিককে কৌশলে একটি বাগানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আশরাফুলসহ আরও কয়েকজন তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকালে রানাগাতি মধ্যপাড়ার একটি বাগান থেকে বাহারুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই বিল্লাল মল্লিক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির মূল তদন্ত করছেন অভয়নগর থানার এসআই নাসির।
৩ লাখ টাকায় হত্যার চুক্তি! ডিবি পুলিশের এসআই শিবু মন্ডল ও এসআই কামাল হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিলার আশরাফুলকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানিয়েছেন, নিহত বাহারুলের ছোটভাই মামুন মল্লিক ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে হত্যার জন্য চুক্তি করেন। চুক্তির অংশ হিসেবে একটি চেক দেওয়া হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা উত্তোলনের পর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে আশরাফুলের সঙ্গে আরও তিনজন অংশ নেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। ডিবি পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানিয়েছেন, তাদের পিতা আব্দুর রশিদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমির ভাগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জমির ভাগ দাবি করে বাহারুল প্রায়ই বাড়িতে এসে পিতা ও ভাইদের সঙ্গে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের বিরোধে জড়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিরোধ ও নির্যাতন থেকে রেহাই পেতেই ছোটভাই মামুন হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে আশরাফুল পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামুন মল্লিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মামুন মল্লিক বর্তমানে পলাতক। তাকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে আরও যারা জড়িত তাদের শনাক্ত ও আটকের পাশাপাশি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে, বাহারুল মল্লিকের হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।