শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

অভয়নগরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির অজুহাতে আটকে আছে এক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ন

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্র, লিখিত আবেদনেও মিলছে না সমাধান। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক শিক্ষার্থীর স্কুল ছাড়পত্র (টিসি) না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক অসহায় পিতা। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘটনাটি উপজেলার হিদিয়া এ.এন.এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ইছামতী গ্রামের নবির সরদারের ছেলে আরমান সরদার ২০২৫ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। পরবর্তীতে সন্তানের উন্নত শিক্ষার স্বার্থে তাকে সিদ্ধিপাশা গ্রামের ডি.আই.এন.জি.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন তার পিতা। কিন্তু নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নবির সরদার। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বারবার মৌখিকভাবে আবেদন করেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সাড়া পাননি তিনি। বরং ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে দফায় দফায় বিদ্যালয়ে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে হতাশ ও অসহায় হয়ে পড়েন এই পিতা। এতে করে তার সন্তানের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও আটকে গেছে ছাড়পত্রের অভাবে। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে, বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন নবির সরদার। তবে আবেদন দেওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে এভাবে জিম্মি করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে হিদিয়া এ,এন,এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন বলেন, দীর্ঘদিন আমার স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় ওই ছাত্রকে টিসি দেওয়া হয়নি, এবিষয়ে আমি শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেছি তিনি রেজুলেশন ছাড়া টিসি দিতে নিষেধ করেছেন। এখন আমার কি করার আছে। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই স্কুলে কমিটি নেই, যে কারণে টিসি দেওয়া সম্ভব নয়, কমিটির অনুমোদন ছাড়াতো হেড মাষ্টার টিসি দিতে পারেনা। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতা কীভাবে একটি শিশুর শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এমন ভোগান্তি থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুক্তি দিতে। এবিষয়ে যশোর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর