মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

কেশবপুরে বিয়ে–প্রতারণার নাটক, প্রভাষক রফিকুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ন

প্রেমের ফাঁদে শারীরিক সম্পর্ক, তারপর বিয়ে-৭ দিনেই তালাক! সর্বস্ব হারিয়ে বিচার চেয়ে পথে পথে এক নারী। যশোরের কেশবপুরে এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নারীকে দীর্ঘদিন ব্যবহার, পরে নাটকীয় বিয়ে ও অল্প সময়ের মধ্যে তালাক দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর গ্রামের মৃত মোস্তফা মোড়লের মেয়ে মাহমুদা সুলতানা রেশমা (৩২) অভিযোগ করেছেন, চার বছরের সম্পর্কের নামে প্রতারণা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি এখন ন্যায়বিচারের আশায় দারে দারে ঘুরছেন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কেশবপুর উপজেলার আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বামী পরিত্যক্ত রেশমার সঙ্গে ২০২১ সালের দিকে রফিকুল ইসলামের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে খুলনা শহরে একটি ভাড়া বাসায় রেশমাকে রেখে স্বামী-স্ত্রীর মতো দীর্ঘদিন বসবাস করেন রফিকুল। স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রতিবারই নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতেন রফিকুল। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন, তবে রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
চরম মানসিক চাপে পড়ে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর রেশমা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাপত্রে তার স্বামীর নাম হিসেবে ‘মো. রফিকুল ইসলাম’ উল্লেখ থাকায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, বিয়ের আগেই কি স্বামীর পরিচয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রভাষক?
অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণ মামলার হুমকির মুখে পড়ে নিজের চাকরি বাঁচাতে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর রেশমাকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে করেন রফিকুল। কিন্তু বিয়ের মাত্র ৭ দিনের মাথায়, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তালাক দিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী রেশমা ইতিমধ্যে যশোর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পাশাপাশি কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি স্ত্রীর মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। প্রতারক মোঃ রফিকুল কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের আজিজ বিশ্বাসের ছেলে।  কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেশমা বলেন, আমি শুধু একটা সংসার চেয়েছিলাম। চার বছর আমাকে ব্যবহার করে শেষে বিয়ের নামে নাটক করে ফেলে দিল। আমি বিচার চাই। যদি বিচার না পাই, আমার বেঁচে থাকার কোনো মানে নেই। অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, রেশমার আগে দুইটি বিয়ে ছিল এবং একটি সন্তান রয়েছে। তাই কাবিনের টাকা পরিশোধ করে তালাক দিয়েছেন। তার দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনাটি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের নৈতিকতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিন অভিযোগের পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? একজন শিক্ষক কীভাবে এমন অভিযোগের পরও বহাল থাকেন?
ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা ও বিচার কোথায়?
কেশবপুরের এই ঘটনা এখন জনমনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একজন নারীর জীবনের সঙ্গে এমন নির্মম খেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও ভেঙে পড়বে, এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর