মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

ভারুয়াখালী স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অনিয়মের পাহাড়: দিন-রাত তালাবদ্ধ গেটে রোগীর হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আপডেট সময়: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন
module: a; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Auto; cct_value: 5181; AI_Scene: (6, -1); aec_lux: 139.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ‘২৪/৭ জরুরি প্রসব সেবা’র সাইনবোর্ড থাকলেও বাস্তবে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। দিনের বেলা তালাবদ্ধ গেটে সেবাবঞ্চিত রোগীদের হাহাকার আর রাতের বেলা জনশূন্য কেন্দ্রে লাইট জ্বালিয়ে রাখা এক ‘ভুতুড়ে’ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বারবার সতর্ক করার পরও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা দূর না হওয়ায় এবার দাপ্তরিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
সরেজমিনে গত ১২ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ পাওয়ায় সেবা নিতে আসা প্রসূতি মায়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ৪ কিলোমিটার দূরের বড় চৌধুরী পাড়া থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসা ভুক্তভোগী মাহি জানান, “স্ত্রীকে চেকআপ করাতে এসে বেলা সাড়ে ১১টাতেও হাসপাতাল বন্ধ পেয়েছি। আগেও দুইবার এসে ফিরে গেছি। এটি চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও কেন বন্ধ তা আমাদের মাথায় আসছে না।”
অজুহাত ও চোর-পুলিশ খেলা:
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UFPO) মো. জুলফিকার আলী-র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, কর্মী ‘স্যাটেলাইট ক্লিনিক’-এ (মাঠ পর্যায়ের কাজ) গেছেন। তবে অভিযোগের কিছুক্ষণ পর দুপুর ১টার দিকে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV) রওশন ফারহানা ইয়াসমিন কেন্দ্রে এসে হাজিরা দিয়ে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক চাপ থেকে বাঁচতে এটি ছিল তার একটি ‘লোক দেখানো’ কৌশল।
রাতের রহস্যময় পরিস্থিতি:
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর চিত্র দেখা যায় ওইদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও ভেতরে সব লাইট জ্বলজ্বল করছিল। স্থানীয়দের দাবি, রাতে সেবা নিতে আসা রোগীদের নিরুৎসাহিত করতে বাইরে অন্ধকার রাখা হলেও ভেতরে লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয় কৃত্রিম উপস্থিতি বুঝাতে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বক্তব্য:
ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জনাব নুরুল আজিম কাজল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই কেন্দ্রের অনিয়ম এখন চরমে পৌঁছেছে। বারংবার মৌখিকভাবে সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও ইউএনও মহোদয়কে অবগত করব।”
মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা. আসিফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে পূর্বেও ‘শোকজ’ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর