১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যায় শহীদের স্মৃতিবহনকারী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা একমাত্র বৈন্যা গনকবরে স্বাধীনতা দিবসে পালিত হয়নি কোন কর্মসূচি। শ্রদ্ধা বা সম্মান জানাতে আসেনি কেউ। এর চেয়ে আর লজ্জা, অপমান কিংবা দ্বায়িত্বহীনতার আর কি থাকতে পারে। অপরাধ বোধ হয়না কারও ? প্রশ্নটা এক শহীদ স্বজনের।
বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসুচি ছিলো। চৌহালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পালিত হয় নানা অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও সভা করেছে। তবে একই দিন খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের বৈন্যা গণকরবে কোন কর্মসূচি বা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেনি কেউ।
বিষয়টি নিয়ে দুপুরে বন্যা গণহত্যায় ৭ শহীদের স্বজন ও খাষপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, জাতির বীর শহীদ সন্তানদের এমন অবমুল্যায়নের জন্য আমাদের লজ্জা ও কষ্ট হচ্ছে। স্মৃতি ফলকে এছর স্বাধীনতা দিবসে সরকারী কিংবা বেসরকারী অথবা রাজনৈতিক কোন দল সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেনি। বর্তমানে শারীরিক ভাবে চরম অসুস্থার কারনে বিছানায় পড়ে আছি। তবে শহীদ পরিবারের অন্য সদস্যের সাথে আমিও ব্যাথিত ও চরম কষ্ট হচ্ছে। আশা করছি আগামীতে এর পুনরাবৃত্তি হবে না। শহীদদের যথাযথ মুল্যায়ন হবে।
সরেজমিন জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকহানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রাম (রসুলপুর) ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের দুলাল সরকারের ফাঁকা বাড়িতে শত শত নিরিহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা সমবেত হয়। রাজাকারদের গোপন সংবাদে পাক হানাদার বাহিনী নাগরপুর বনগ্রাম ও চৌহালী বৈন্যা পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ আগুনে বেশ কিছু গবাদিপশুও মারা যায়। এছাড়া পাকবাহিনী ৭৫ থেকে ৮০জন নিরিহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাকে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে। এর মধ্যে চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বড় ভাই হারুন অর রশিদ, ভগ্নিপতি শাহজাহানসহ একই পরিবারের ৭ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আশপাশ এলাকার আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা এ হত্যার শিকার হয়।
পরবর্তীতে চৌহালী উপজেলার বৈন্যা গ্রামের গণহত্যায় নিহতদের বৈন্যা গ্রামের গণকবরে দাফন করা হয়। এদিকে ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জের গণহত্যা অনুসন্ধান কমিটি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৪ জন শহিদের নাম ঠিকানা উদ্ধার করেন। বাকিদের নাম পরিচয় আজও জানা যায়নি। ২০২৩ সালে ২৫ মার্চ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে একটি স্মৃতি ফলক নির্মান করা হয়। পরবর্তীতে সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে।
এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহিদ মোল্লা বলেন, বৈন্যা গনকবরে শ্রদ্ধা জানাতে সকলেরই যাওয়া উচিত শারিরিক অসুস্থতার কারনে আমি বাসায় অবস্থান করছি। তবে উপজেলা প্রশাসনের এটা ব্যর্থতা, বিগত সময়ে সেখানে শ্রদ্ধা জানাতো প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এরজন্য কর্মসূচি জানানো হতো।
এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানান, উপজেলা সদরে প্রশাসনের উদ্যোগে দিনভর সরকারী অনুষ্ঠানমালা ছিলো, এ কারনে মিস হয়েছে।