শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

আটঘরিয়ার হাড়লপাড়া ও শ্রীকান্তপুরে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব, হুমকির মুখে কৃষি ও পরিবেশ

আটঘরিয়া(পাবনা)প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটার মহোৎসব চলছে। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিন-রাত আবাদি জমির মাটি কেটে সাবাড় করছে।
এতে একদিকে যেমন হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
​সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের হাড়লপাড়া এলাকার মটরবিলে ও দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি চলে যাচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ইটভাটায় ও নিচু জমি ভরাট এবং বাড়ির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অভিযোগ করে স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রভাব শালীচক্রের চাপে অনেক সময় সাধারণ কৃষকরা জমি রক্ষায় অসহায় হয়ে পড়ছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক বছরে এখানে আর চাষবাস করার উপায় থাকবে না। ট্রাক্টরের ধুলোয় রাস্তার ধারের গাছপালা পর্যন্ত মরে যাচ্ছে।”
মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ‘কাকড়া’ ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির সড়কগুলো ধসে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকায় ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির ওপরের স্তর বা টপ সয়েল একবার কেটে নিলে ওই জমির উর্বরতা ফিরে পেতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। এভাবে গণহারে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে এলাকায় খাদ্য সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, “অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। এটি বন্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
সাধারণ মানুষ বা সচেতন মহলের কেউ যদি আমাদের তথ্য প্রদান করেন, আমরা সাথে সাথে সেখানে অভিযান পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করি। জনস্বার্থে এই অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে।
​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোক দেখানো জরিমানা নয়, ফসলি জমি রক্ষায় মাটি কাটা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর