শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

আজ গোপালপুরে আনাদার মুক্ত দিবস ও গৌরবের উজ্জল ইতিহাস

মোঃ নুর আলম, গোপালপুর(টাঙ্গাইল):
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা  ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এ দিন টাঙ্গাইলের এ দুটি অঞ্চল পাক হানাদার মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের মহান স্বধীনতা যুদ্ধের প্রায় ৮ মাস পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক গোপালপুরবাসী হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের পর ১০ ডিসেম্বর মুক্তির স্বাদ লাভ করে। পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৪ বৎসরের দুঃশাসন, বঞ্চনা, বৈষম্য, অত্যাচার, নির্যাতনের ফলে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের দেশটির। ২৫ মার্চ ৭১`র কালো রাতে পাকহানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তার ধারাবাহিকতা সারা দেশে চালাতে থাকে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে গোপালপুরের বীর জনতা দেশের অবস্থা অনুধাবন করতে পেরে সংগঠিত হয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে।
টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে অবস্থিত গোপালপুর থানা। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর নিকরাইল রানী দিনমনি হাইস্কুলে ৭০ জন কমান্ডারের মিটিংয়ের পর কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী গোপালপুর থানা আক্রমণ করার জন্য কয়েকজন কোম্পানি কমান্ডারকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়া কোম্পানি কমান্ডারিা হলেন- নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর কোম্পানি, আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, আসাদুজ্জামান আরজু কোম্পানি, বকুল কোম্পানি, আব্দুল হাকিম কোম্পানি, নূরুল ইসলাম কোম্পানি, আনিসুর রহমান আনিস কোম্পানি এবং খন্দকার হাবিবুর রহমান কোম্পানি।
এদের মধ্যে চারটি কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে পরামর্শ সভা করে গোপালপুর আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা অনুসারে নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর কোম্পানি গোপালপুর গরুহাটি দিয়ে আক্রমণ করবে। আসাদুজ্জামান আরজু কোম্পানি গোপালপুর দক্ষিণাংশ অর্থাৎ কীর্তনখোলা দিয়ে আক্রমণ করবে। আর আব্দুল হাকিম কোম্পানি পশ্চিম দিক থেকে মর্টার বাহিনী হিসেবে আক্রমণ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর গোপালপুর থানা আক্রমণ হয়।
১০ ডিসেম্বর দুপুর ৩ টায় ভারতীয় ৩টি মিগ-২১ বিমান গোপালপুর ও ঘাটাইল থানার উপর একযোগে ট্রাম্পিং করে। দুই থানার ক্যাম্পে অবস্থিত পাক সেনা ও রাজাকাররা বাঁচার তাগিদে রাতের আঁধারে গোপালপুর থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় গোপালপুর থানার সূতি, নন্দনপুর, ভূয়ার পাড়া, চরপাড়া, গোপালপুর গরুহাটিসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পাক সেনাদের ঘেরাও করে রেখেছিলেন। পাক সেনাদের পালিয়ে যেতে দেখে মিঞা কমান্ডার ও চাঁদ মিঞার প্লার্টুনের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ধরার জন্য ধাওয়া করেন। প্রায় ১ ঘণ্টা গোলাগুলি হয়।
১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে শত্রু সেনা গোপালপুর থানা থেকে পালিয়ে যায়। বেলা ১১ টা ৩০ মিনিটে আরজু কোম্পানির চাঁদ মিঞার প্লার্টুনের মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করতে করতে গোপালপুর থানায় প্রবেশ করেন। সেই সঙ্গে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে। সর্ব প্রথম চাঁদ মিঞা, সাহেব আলী, শামছুল আলম, আব্দুল লতিফ, আজাহার, কাদের তালুকদার, তোরাপ সিকদার, ইসমাইল হোসেন মৃধা, আব্দুস সোবহান তুলা প্রমুখ গিয়ে থানায় উঠেন। পরে আসাদুজ্জামান আরজু কমান্ডার, বিমল, হায়দার, জয়নাল, শুকুর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্তরের মানুষ থানায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সঙ্গে কোলাকোলি করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি খাবারের ব্যবস্থা করেন। ১০ ডিসেম্বর শনিবার গোপালপুর থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়। বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর