শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

মসজিদ হলেও যেখানে নামাজ কবুল হয় না! – মুফতি মাওলানা: শামীম আহমেদ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

মসজিদ ইসলামের এমন এক পবিত্র স্থান, যেখানে মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত করে, ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—সব মসজিদে নামাজ কবুল হয় না। ইসলাম এমন কিছু মসজিদের কথা উল্লেখ করেছে যেখানে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়, বরং গুনাহের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। কোরআনের আলোকে

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“যারা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে, অবিশ্বাস প্রচারের জন্য, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য এবং পূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা লোকদের জন্য ওঁত পেতে থাকার উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করেছে, তারা শপথ করে বলে—আমরা তো কল্যাণই চাই। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তারা মিথ্যাবাদী। তুমি কখনো সেখানে নামাজের জন্য দাঁড়াবে না।”
(সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১০৭-১০৮)

এই আয়াতে যে মসজিদের কথা বলা হয়েছে, ইতিহাসে সেটিই মসজিদে দিরার নামে পরিচিত। এটি মুনাফিকরা নির্মাণ করেছিল মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।তাফসিরের ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত তাফসিরকার ইবনে কাসির (রহ.) বলেন—

“যে মসজিদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়, বরং গোঁড়ামি, বিদ্বেষ ও বিভেদের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়—তা আসলে মসজিদ নয়; বরং তা গুনাহের স্থান।”
(তাফসির ইবনে কাসির, সূরা আত-তাওবা: ১০৭)

অর্থাৎ—যে মসজিদ ফিতনা, রাজনীতি, দলাদলি, ব্যক্তিস্বার্থ বা দ্বীনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, সেখানে নামাজ আদায় করা হারাম ও কবুলযোগ্য নয়। হাদীসের আলোকে

রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে যখন মসজিদে দিরারে নামাজ পড়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়, তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে সেখানে যাননি; বরং নির্দেশ দেন যেন সেই মসজিদ ধ্বংস করে ফেলা হয়।
(সহিহ বুখারি, হাদীস: ৪০৯২

এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা শিখি—

  • মসজিদ শুধু নাম বা ভবন নয়; এটি ঈমান, ঐক্য ও তাকওয়ার প্রতীক।
  • আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত যে ইবাদত, তা কবুল হয় না।
  • ফিতনা, বিদ্বেষ বা ভ্রান্ত উদ্দেশ্যে নির্মিত মসজিদে নামাজ পড়া গুনাহের কাজ।

মসজিদ আল্লাহর ঘর—কিন্তু যদি তা আল্লাহর অবাধ্যতার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেটি আর পবিত্র থাকে না। তাই আমাদের উচিত—
সেই মসজিদে নামাজ আদায় করা, যেখানে তাকওয়া, সত্য, ঐক্য ও ইমানের চেতনা জাগ্রত থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর