শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

শিক্ষা সফর না কি বনভোজন – এম এ মাসুদ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পাঠ্য বইয়ের মধ্যে সীমিত। অথচ এর বাইরে রয়েছে রূপসী বাংলার প্রকৃতির নজরকাড়া অপরূপ সৌন্দর্য্য। রয়েছে নদী-নালা, খাল-বিল, পাহাড়-টিলা, বন-বনানী। কক্সবাজারে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত, দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট, প্রাচীন বৌদ্ধসভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাহাড়পুর, প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর, যার বর্তমান নাম মহাস্থানগড়, কুমিল্লার ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার, বাগের হাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, তাজহাট জমিদার বাড়িসহ রয়েছে নানা সব স্থাপত্যকীর্তি। এছাড়া রয়েছে বিচিত্র মানুষ এবং তাদের বিচিত্র জীবন-জীবিকা।
শ্রেণিকক্ষের বইয়ে রয়েছে এর অনেক কিছুই। যা শিক্ষার্থীদের মুখস্ত করে পড়তে হয়। কিন্তু অবলোকন আর মুখস্থ করে আত্মস্থ করার মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। আর এই ফারাক দূর করার মাধ্যমে শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করে তুলতে প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা। এজন্যই গুণীজনরা বলে থাকেন জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার পথ হলো দুটো। এক: বই পড়া, দুই: ভ্রমণ করা। অর্থাৎ পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি যেতে হয় প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে। এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন শিক্ষা সফর। এমনিতে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার মধ্যে আনন্দ আছে বৈকি! কিন্তু শিক্ষার জন্য সফরে যেতে যে ভ্রমণ হয় তাতে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃত শিক্ষা।
শিক্ষা সফর নানাভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানের জগতকে প্রসারিত এবং সমৃদ্ধ করে তোলে। পায় পূর্ণতা। কেবলমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে এমন স্থান শিক্ষা সফরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা নয়। অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেতে পারে দেশের সার, সিমেন্ট কাগজ, চিনিসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়। যেতে পারে দিনাজপুরের কয়লা ও কঠিন শীলা প্রকল্প এবং দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে। ইতিহাসের শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে যেতে পারে ময়নামতির প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর। যেতে পারে প্রাচীন বৌদ্ধসভ্যতার ধ্বংসাবশেষ পাহাড়পুরে। এতে পঠিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নানা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে যাচাই করতে পারে শিক্ষার্থীরা। ফলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অর্জিত শিক্ষার সাথে বাস্তবের মেলবন্ধন রচিত হয়। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানের চেয়ে ফলপ্রসূ হয় অধিকতর। শিক্ষার্থীদের মাঝে যৌথভাবে কাজ করার মনোভাব সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে সহযোগিতার মনোভাব। গাঢ় হয়ে ওঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক। মানুষ ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের মন হয় উদার, সহানুভূতিশীল এবং স্মৃতিময় হয়ে থাকে ওই মুহূর্তগুলো।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ইদানীং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং খ্যাতনামা কিছু শহুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আজও শিক্ষা সফর বলতে কোনো কৃত্রিম স্থানে বাসে করে দলবেঁধে ঘুরে আসাকে বুঝে থাকে। প্রতিবছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় শিক্ষা সফরের উদ্যোগ। তারা যেতে চায় পাহাড়পুর, তিন বিঘা করিডোর, সিংড়া ফরেষ্ট, পুন্ড্রবর্ধন, ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবনসহ বিভিন্ন স্থানে। সফরের অর্থও যোগান দিয়ে থাকে মূলত তারাই। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছোঁয়ায় যান্ত্রিক এ সমাজে শিক্ষা সফরের নাম করে পিকনিক নামক উদ্দাম সংস্কৃতির রূপ নেওয়া সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে যেন ইচ্ছে করছে না গ্রামীণ জনপদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। কর্তৃপক্ষের অনিহা আর অসহযোগিতার জন্য নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা যেতে অনেকটা বাধ্য হয় কৃত্রিমতায় পরিপূর্ণ স্থানগুলোতে। শিক্ষা সফরে যেতে চাওয়া ছাত্ররা শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে যেতে চাইলেও অনেক সময় আশাহত হয়ে ট্রাক, মিনিট্রাকে গাদাগাদি করে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে শিক্ষকদের ছাড়াই তারা চলে যায় ওই কৃত্রিম বাণিজ্যিক স্থানগুলোতে। অথচ চার দেয়ালের গন্ডির মধ্যে কৃত্রিমভাবে তৈরি বাণিজ্যিক স্থানগুলোতে শেখার মত তেমন কিছু নেই। উপরন্তু গেট পার হওয়ার পর যা কিছু রয়েছে তাতে চড়তে কিংবা ভিতরে ঢুকে অবলোকন করতে প্রতিটির জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তা দিয়েই দূরদূরান্ততে গিয়ে দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার পেতে পারে সুযোগ।
শিক্ষা সফর শিক্ষা প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। ধারণা পেতে পারে দেশের সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে। শুধুমাত্র পাঠ্য বই পড়ে শিক্ষার ব্যপ্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। গুস্তাভ ফ্লুবেয়ারের মতে, ‘ভ্রমণ মানুষকে বিনয়ী করে তোলে। সে জানতে পারে দুনিয়ার তুলনায় সে কত ক্ষুদ্র।’ বেঞ্জামিন দিজরেলির মতে, ‘ভ্রমণ পরমতসহিষ্ণুতা শেখায়।’ ভ্রমণ মানুষকে জ্ঞান অজর্ন করতে সাহায্য করে, বলেন জেফারসনস।
বস্তুত শিক্ষার্থীর পাঠ নির্ভর বিদ্যা পরিপূর্ণতা পায় শিক্ষা সফরের মাধ্যমে। আর তখনই শিক্ষা হয়ে ওঠে বাস্তব ও জীবনমুখী। তাই শিক্ষা সফরকে শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষাকে বাস্তবানুগ করার জন্য শিক্ষা সফরের আদলে বনভোজন নয় কিংবা কৃত্রিম কোনো স্থান নয়, নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষা সফর। আর এ সুযোগ সৃষ্টি করা আবশ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। এমন প্রত্যাশা সবার।
এম এ মাসুদ
সাংবাদিক ও কলামিস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর