শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

আখে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

আমজাদ হোসেন রতন, নাগরপুর (টাঙ্গাইল)ঃ
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এবার আখ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষি অফিসের বিভিন্ন সহযোগিতায় কৃষক দিন দিন আখ চাষে ঝুঁকছেন। আখ চাষের সাথে অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসল বোনার সুযোগ থাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আখ চাষ। কেউ পাইকারী বাজারে কেউবা নিজেই খুচরা বিক্রি করে চালায় চাষিদের সংসার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় সারি সারি লাল-সবুজের চোখ ধাঁ-ধাঁনো আখের জমি। এবার বন্যার পানি না আসায় বাতাসে দোল দিচ্ছে লম্বা সবুজ পাতায় চাষির ভাগ্য বদলের স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলায় মিশ্রি দানা, রংবিলাশ, পচা দানা, ঈশ^রদী-২৭ ও বোম্বাইসহ বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হয়েছে ৮০ হেক্টর। তবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে আগাম বন্যায় আখ পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চাষীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং বিভিন্ন প্রনোদনা দিয়ে উৎসাহ করায় আখ চাষের পরিমাণ বেশি হয়েছে। ফলে এবার দুই হাজার মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
উপজেলার সহবতপুর এলাকার সামাদ মিয়ার ছেলে আখ চাষি সালাম মিয়া (৩৭)। গত বছর আগাম বন্যায় আখ পরে গিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গতবার লোকসান হলেও এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে তাঁর। এবার চার বিঘা জমিতে আখ চাষে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর ধরে চাষ করে যাচ্ছেন সু-মিষ্ট বিভিন্ন জাতের আখ।
তিনি বলেন, দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সংসার আমার। আখ চাষের সাথে অন্যান্য সবজি বোনা যায়। ফলে আখে চাষে যা খরচ হয় তা আখের কেলের ভিতরে বোনা কপি, বাধা কপি, মিষ্টি লাউ এগুলো বিক্রি করেই চালান উঠে। কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শ মতে এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাইকেরী দরেই ক্ষেত থেকেই আখ বিক্রি করেন তিনি। আখ বিক্রির বাড়তি আয় দিয়েই পরিবারের আর্থিক সমস্যার সমাধান করে আজ তিনি স্বাবলম্বী।
উপজেলার একাধিক আখ চাষিরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আখের ফলন ভালো। করোনা ভাইরাসে লকডাউনে সব কিছু লোকসানের দিকে গেলেও আখ সহজে পঁচে নষ্ট হয় না তাই এবার আখ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পাবো। পরিবারের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে ভাল ভাবে সংসার চালাতে পারবে বলেও জানান তিনি।
আখ চাষে সফলতা ও ভাল ফলনের জন্য সু-পরামর্শ হিসেবে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রুবেল ও ছরোয়ার হোসাইন বলেন, আখের চারা জমিতে লাগানোর পূর্বে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাক নাশক দিয়ে বীজ শোধন করলে বিভিন্ন প্রকার রোগবালাই কম হয় এবং ওই জমিতে বোরন প্রয়োগ করলে ফলন বাম্পার হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মতিন বিশ^াস জানান, আখ খুব লাভজনক এবং এবার ফলন খুবই ভাল হয়েছে। আবহাওয়া বুঝে লাল পচা এবং মাঝরা পোকা রোগ ছাড়া তেমন কোন জটিল রোগ নেই। উপজেলার চাষীদের আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। চাষিদের জন্য সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
তিনি আরও জানান, আখের দাম এবার ভাল যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি পণ্য পরিবহনে করোনার লকডাউনে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। যদি কোন কৃষক কৃষি পণ্য পরিবহনে করোনার লকডাউনে সমস্যায় পড়ে তাহলে কৃষি বিভাগকে অবগত করলে তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর