মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন” জিন্দানী ব্লাড ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পনে রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বিএনসিসির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “বিএনসিসি ডে” উদযাপিত রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’

গুরুদাসপুরে ভূমিহীন পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল পুকুরপাড়!

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
অন্যের পুকুরপাড়ে ভাঙ্গা টিনের বেড়ার ছাউনিতে বসবাস করেন অসহায় রাফিওন বেগম।স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পুকুর পাহারা দিয়ে চলছে তার সংসার জীবন। আশেপাশে নেই কোন বাড়িঘর। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ও রাত কাটাতে হয় তাদের। নেই কোনো ভূমি, ঘর বা মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাই উচ্ছেদের ভয় মাথায় নিয়েই গত দশ বছর ধরে পুকুরপাড়ে থাকছেন তারা। এমন হতাশাগ্রস্থ দুস্থ পরিবারের দেখা মিলেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের টলটলি পাড়ায় কুমারখালি গ্রামের আলতুব হোসেনের লিজ নেওয়া পুকুরের এক কোণায় তৈরি ঘরে বসে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পুকুর পাহারা দিচ্ছেন রাফিওন বেগম।স্বামী আক্তার হোসেন পুকুর পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করেন। সেই ঘরটাও পুকুর মালিকের দেওয়া। রাফিওন বেগমের দুই ছেলে। বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে এবং ছোট ছেলে এবছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। কারো সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের পুকুর পাহাড়া দিতে হচ্ছে।

পুকুর মালিক আলতুব হোসেন বলেন, আক্তারের বাবা মৃত আরমান সরদারের জীবন কেটেছে পুকুর পাহারা দিয়ে। জমি ও ঘরবাড়ি না থাকায় পুকুরপাড়েই থাকতে হচ্ছে আক্তারের পরিবারকে। দুই সন্তানসহ দিন এনে দিন খেয়ে চলছে তাদের সংসার। বর্তমানে তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুকুরপাড়।

রাফিওনের ভূমিহীন স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, আমার বাবার কোনো জায়গাজমি ছিলো না। পুকুর পাহাড়ার ওপর নির্ভর করে ছোট্ট ঘর করে দিয়েছেন পুকুর মালিক। তাই পরিবার নিয়ে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফানের সঙ্গে যুদ্ধ করেই পশু পাখির মতো বসবাস করতে হচ্ছে। দুর্যোগ আতঙ্কে এক মুহূর্তেও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা।

কষ্টের কথা বলতে গিয়ে রাফিওন বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি এক অসহায় পরিবারের মেয়ে। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে অন্যের পুকুরপাড়ে মিলেছে ঠিকানা। আমাদের দেখার কেউ নেই। সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। শুনেছি যাদের জমি আছে ঘর নাই, ঘর আছে জমি নাই, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী গৃহের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আমার বাড়ি জমি কিছুই নেই। উপজেলা প্রশাসন আমাদের খোঁজখবর নিয়ে গৃহের ব্যবস্থা করে দিলে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।

 

CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর