মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
গোপালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃ*ত্যু শশুড় বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজের দুইদিন পর নদীতে মিলল জাহিদের মরদেহ, দোষীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন হেমনগরে বেলুয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ জমকালো ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী  অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন”

ঈদে উল্লাপাড়ার বিভিন্ন স্পটে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়

কে,এম আল আমিন:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ঈদ পরবর্তী সময়টাকে আরও একটু আনন্দঘন করতে মানুষ ছুটছে নিজ এলাকার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে।শিশু-কিশোরসহ সকল বয়সের মানুষ ঈদে চায় পরিবারের সদস্যদের বাড়তি কিছু আনন্দ দিতে।

আর এই আনন্দে মেতে ওঠার জন্য সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বিভিন্ন অস্থায়ী স্পট বা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরছে বিনোদনপ্রেমীরা। ঈদের বেশ কয়েকদিন পার হলেও ভ্রমণের স্থান গুলোতে যেন তিল ধারনের ঠাই নাই। উল্লাপাড়ার মোহনপুর বাংলো পাড়া হতে উধুনিয়া ( নতুন পাকাকরণ) ৫ কি: মি: সড়ক। দীর্ঘ বিলের মধ্য দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এ সড়ক। যে বিলের নাম বিলাশী বিল। বর্ষাকালীন সময়ে এ বিলে তাকালেই শুধু পানি আর পানি। বিকেলের মুক্ত আবহাওয়া আর প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল দেখার মত। সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় উপজেলা উল্লাপাড়ায় উদ্যোক্তার অভাবে সাধারণ মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য উল্লেখযোগ্য পার্ক,বিনোদন স্পট বা ভ্রমণের ব্যবস্থা তেমন নেই বললেই চলে।
উল্লাপাড়া শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মোহনপুর বাংলো পাড়া হয়ে উপজেলার শেষ প্রান্ত উধুনিয়া ইউনিয়নবাসীর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বিলাশী বিল। আর এই এলাকার জনপদের অবহেলিত ৫ কি: মি: রাস্তা বর্তমান সরকারের আমলে নির্মান সহ পাকা করণ করা হয়। উন্নয়নের রুপকার উল্লাপাড়ার মাননীয় এমপি জনাব তানভীর ইমাম গত ২৫ জুন পাকা করণের উদ্বোধন করেন। এই ৫ কি:মি: পাকা রাস্তার দু’পাশে নেই কোন বাড়িঘর। আঁকাবাঁকা রাস্তার দু’পাশে শুধুই অথৈ জলরাশি।
যে দিকেই চোখ যায়, মনে হয় মিনি কক্সবাজার, শুধুই পানি আর পানি। পড়ন্ত বিকেলে রাস্তার মাঝখানের সেই ব্রিজে দাঁড়ালে মনে পড়ে কক্সবাজার বা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের উচ্ছাস ঢেউয়ের কথা। ডিজে’র সাজে ভ্রমণ পিপাসুদের নৌকায় এলোপাথাড়ী ঘোরার দৃশ্য মনে করে দেয় শিল্পী আব্দুল আলিমের সেই পদ্মা নদীর গান।
আর এই বিলাশী বিলের দীর্ঘ রাস্তায় ঈদ পরবর্তী বিনোদনপ্রেমী মানুষের ক্ষণিক আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে। মাননীয় এমপি মহোদয় রাস্তাটি পাকা করণ সহ রাস্তার পাশে বিনোদনপ্রেমীদের বসার সুব্যবস্থা করায় অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের ঈদে দীর্ঘ এই রাস্তায় বিনোদনপ্রেমীদের জনাকীর্ণ উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মত।
পাশেই বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কাশেম নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নামে কাশেম বিলের সৌন্দর্য আর মুক্ত হাওয়ার টানে দুর দুরান্ত হতে ছুটে চলেছে হাজার হাজার দর্শনার্থী। বিনোদনপ্রেমীদের জন্য উল্লাপাড়ার আরেকটি স্পট হলো ছোনতলা ব্রীজ। করতোয়া নদীর উপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই ব্রীজের নীচে যেন বসেছে মিলন মেলা। সারি সারি দোকান পাট, পসড়া সাজিয়ে ব্রীজের নিচে চলছে বেচাকেনা। ফুচকা আর সরবতের দোকানীরা চেয়ার সাজিয়ে রেখেছে নদীর ধারে। দর্শনার্থীরা একটু বিশ্রাম নিতে প্রিয়জনদের নিয়ে এসব চেয়ারে বসে নদীর নির্মল হাওয়া উপভোগ করছে।কেউবা নৌকা / স্পীড বোটে করে নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পাশেই প্রাচীনকালের চিরচেনা ঘাটিনা রেলসেতু আর ব্রীজ দেখতেও ভীড় করছে অনেকে। এদিকে উপজেলার বড়হর-তেতুলিয়া এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নবনির্মিত বড়হর ব্রীজটি পারাপারের জন্য উদ্বোধন না হলেও ঈদ পরবর্তী বিনোদনপ্রেমীদের কিন্তু সমাগম কম নয়। পাশেই যেন বসেছে ফুচকা, পিয়াজু,বরা,ছোলাসহ হরেক মালের দোকান। ব্রীজের উপরে প্রিয়জনদের সাথে সেলফি আড্ডায় মেতেছে অনেকে। উল্লাপাড়ার সুপরিচিত নারী নেত্রী,একজন সফল নারী উদ্যোক্তা রিবলি ইসলাম কবিতা বিনোদনের জন্য চড়ইমুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেছেন “রিয়া রুপণ” নামে একটি শিশু পার্ক।এটি উপজেলার মধ্যে একটি স্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র বলে সবার পরিচিত। চারদিকে বাউন্ডারি,সুশীতল ছায়া আর সবুজ বৃক্ষ বেস্টিত পশ্চিমের দৃষ্টিনন্দন একমাত্র প্রবেশ পথে তাকালেই মন ভরে যায়।সারা বছরের ন্যায় ঈদ উপলক্ষ্যে শিশু কিশোর সহ সব বয়সের বিনোদন পিয়াসুদের পদচারনা ঘটছে এ পার্কে। কালের স্বাক্ষী হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দিরেও ঈদ উপলক্ষ্যে আসছে শতশত পর্যটক।
এবারের ঈদ আনন্দকে স্বার্থক করতে হাজার হাজার নারী/পুরুষ ও শিশু-কিশোর সহ সকল বয়সী মানুষ আনন্দে একাকার হয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিনোদন স্পটে উপচেপড়া ভীড় করছে।
বিভিন্ন এলাকা হতে আসা দর্শনার্থীরা জানায়, করোনা থাকায় গত দুই বছরে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারি নাই। এবার ঈদে পরিবার নিয়ে বিকেল বেলা আমরা ঘুরতে এসে বেশ মজা আর আনন্দ উপভোগ করলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর