টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালের সামনে থেকে এক প্রবাসীর সাড়ে ৯ হাজার রিয়াল ও দুইটি মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মা ও স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আনা টাকাগুলো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ২০ মার্চ রাত ১২টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালের সামনে প্রবাসী লুৎফর রহমানকে অচেতন করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সৌদি প্রবাসী লুৎফর রহমান।
ভোক্তভোগী লুৎফর রহমান জেলার বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী লুৎফর রহমানের অসুস্থ মা ও পেটব্যথা জনিত কারণে স্ত্রীকে গত ১৯ মার্চ বিকেলে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২০ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য মাকে ঢাকায় নেওয়ার কথা থাকায় সাড়ে ৯ হাজার রিয়াল সঙ্গে নিয়ে যান লুৎফর রহমান। এদিন রাতে লুৎফর ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফ হাসপাতালের সামনে রোগিদের স্বজনদের জন্য করা শাপলা চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় রাত ৯টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি রোগির অভিভাবক পরিচয়ে পাশে বসে কথা শুরু করেন। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিটি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিভিন্ন ধরণের কথোপকথন করেন। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিটি একটি জুস এনে লুৎফর ও তার ছোট ভাইকে খাওয়ার জন্য দেয়। জুসটি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই লুৎফর ও তার ছোট ভাই অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে প্রবাসী লুৎফর রহমানের সঙ্গে থাকা সাড়ে ৯ হাজার রিয়াল টাকা ও একটি আইফোন এবং একটি অ্যান্ড্রয়েট মোবাইল নিয়ে কৌশলে ছিটকে পড়েন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিটি। এক পর্যায়ে ভোরের দিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে তাদের দুজনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ২২ মার্চ মির্জাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে সিটি টিভি ফুটেজ উদ্ধার করে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে প্রবাসী লুৎফর রহমান অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করেন। তবে এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনও অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভোক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমার অসুস্থ মা ও পেটব্যথা জনিত কারণে স্ত্রীকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হঠাৎ করে হাসপাতালে ভর্তি করায় বাড়িতে থাকা সৌদির সাড়ে ৯ হাজার রিয়াল সঙ্গে নিয়ে যাই। ওইদিন অজ্ঞাত ব্যক্তিটি তার মা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেÑ এমন কথা বলে পাশে বসে গল্প করেন। এক পর্যায়ে একটি জুস এনে আমাদের দুই ভাইকে খাওয়ার জন্য দেয়। সরল মনে জুসটি খেয়েছিলাম। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা দুই ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। এসময় আমার সাথে থাকা সৌদির সাড়ে ৯ হাজার রিয়াল ও দুইটি মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে ওই লোকটি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিটিকে শনাক্ত করেছি, কিন্তু তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আমার মায়ের অসুস্থতার কারণে টাকাগুলো এনেছিলাম। এখন আমার কাছে মায়ের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখনও অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।’
এ ব্যাপারে ২ এপ্রিল বিকেলে মির্জাপুর থানার এসআই মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সিটি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। অপরাধীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’