রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

সড়ক বিভাগের আছে শুধু সতর্কবাণী; নেই কার্যকর ভূমিকা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

মহাসড়ক আইনে টাঙানো বিলবোর্ডে লেখা আছে সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ, হাট-বাজার বসানো বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মহাসড়কের কোনো অংশ ব্যবহার করা যাইবে না। একই আইনে আরও লেখা আছে মহাসড়কে সওজ অধিগ্রহণকৃত ভূমির প্রান্তসীমা (ROW) হতে ৩৩ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না।

 

নওগাঁ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার রাণীনগর উপজেরার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে এভাবেই লিখে টাঙিয়ে দেওয়া আছে বিভিন্ন সতর্কতামূলকবাণীর বিলবোর্ড। অথচ সুযোগ পেলেই যে যার মতো স্থাপনা নির্মাণ করছে, কেউ কেউ বালু, খোয়া ও খড়ি রেখে ব্যবসা করছে। কেউ আবার খড় শুকিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কিছু না বলার কারণে দিন দিন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেউ কেউ মহসড়কের পাশেই জায়গা দখল করে নির্মাণ করছে স্থায়ী স্থাপনা, কেউ কেউ আবার করছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আবার একজনের দেখাদেখি আরেকজন নিচ্ছে সুযোগ। তাই সাধারণ মানুষ বলছে সড়ক বিভাগের টাঙানো বিলবোর্ড সতর্কবাণীতেই সীমাবদ্ধ, নেই কার্যকর ভূমিকা।আবার অনেকে বলছেন সচেতনতার অভাব, আবার কারো কারো কাছে সচেতনতার এই শব্দটি ঢোপে দিচ্ছে না। তারা বলছেন আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে দিন দিন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাণীনগর উপজেলায় সওজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সড়কে সতর্কবাণীর বিলবোর্ড টাঙানো থাকলেও মানা হচ্ছে না আইন। তাদের টাঙানো এই সতর্কবাণীকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে যে যার মতো ব্যবহার করছে। আঞ্চলিক সড়কের জায়গায় বসানো হচ্ছে হাট বাজার। আবার ধানের হাট বসিয়ে সাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধও করা হয় একাধিক জায়গায়। কোথাও কোথাও সড়কের ওপরই বসে গরু-ছাগলের হাট, যা চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। আর সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর ঘটনাতো নিত্যদিনের। এমনকি অনেকে স্থায়ীভাবে দখলও করে নিচ্ছে সড়ক বিভাগের জায়গা। এমন বহু ঘটনা আছে এই উপজেলা জুড়ে। তাই সচেতন ব্যক্তিদের দাবি শুধু সতর্কবাণী নয়, নিতে হবে যথাযথ ব্যবস্থা, করতে হবে আইনের প্রয়োগ। তবেই গ্রহণযোগ্যতা পাবে টাঙানো সতর্কতামূলকবাণীর বিলবোর্ড।

 

মোটরসাইকেল চালক সামিউল আলম ও নয়ন শেখ বলেন, সড়কে যখন খড় রাখে, তখন বোঝা যায়না। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। আবার রাস্তায় ইট, বালু ও খোয়া রাখার ফলেও চলাচলে ঝুঁকি থাকে। তাই সড়কের ওপর কিছু না রাখায় ভালো। সেই জন্য সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। এছাড়া সচেতনও হতে হবে। তবে পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনেকে সাহস পায়।

 

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র রাণীনগর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি সাইদুজ্জামান সাগর বলেন, শুধু সড়কের বেলায় নয়, প্রতিটা ক্ষেত্রেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকা উচিত। সড়ক বিভাগ থেকে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড টাঙানো থাকলেও কেউ সেটা মানে না। কারণ নেই আইনের প্রয়োগ। আবার জনমানুষের মাঝেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেক সময় রাস্তায় বালু খোয়া রেখে কাজ করে, কেউ কেউ রাস্তায় খড় শুকায়। এছাড়া সড়ক বিভাগের ৩৩ ফুটের মধ্যেও একাধিক স্থাপনা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। তবেই আমাদের জন্য সড়ক হবে নিরাপদ।

 

এবিষয়ে নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, জনগণকে সচেতন করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সড়কে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টাঙানো হয়। কিন্তু অনেকে মানতে চান না। সড়কের অধিগ্রহণকৃত ৩৩ ফিট জায়গার কাছে যার বাড়ি বা জমি থাকে, সে মনে করে এটা তার জায়গা। সরকারি সম্পত্তি হলেও সে নিজের সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করে। কেউ কেউ এই সড়কের ৩৩ফিট জায়গা না ছেড়েই স্থাপনা নির্মাণ করেছে। আবার একজনের দেখাদেখি অন্যজনও সুযোগ নেয়। এবিয়য়ে কি করা যায়, আমাদের একটা উদ্যোগ নিতে হবে। আর বিভিন্ন চালকরা নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর