সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় স্বামীর সম্পত্তির ন্যায্য অংশ দাবী করায় এক বিধবা নারীকে সমাজচ্যুত করা এবং প্রাণনাশের হুমকী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় প্রভাবশালী সৎ ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউপ মালতিনগর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত অসীমুদ্দিন প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রায় এক দশক আগে দেলেরা (৫১) নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সংসার চলাকালীন সময়ে অসীমুদ্দিন মারা গেলে তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান ইসমাইল হোসেন (৪০) এবং নাতি ইমরান (২৫) দেলেরাকে স্বামীর সম্পত্তির ন্যায্য অংশ (প্রায় ২ আনা) থেকে বঞ্চিত করে।
দেলেরা অভিযোগ করেন,ন্যায্য হিস্যা চাইতে গেলে তাকে বারবার শারীরিক নির্যাতন,হুমকী এবং মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে।এমনকি পূর্বে সালিশী বৈঠকে তার জন্য ২৬ শতক জমি নির্ধারণ করা হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সাম্প্রতিক ঘটনায়,ঈদের আগে গত ১৯ মার্চ সকালে ইসমাইল ও তার সহযোগীরা দেলেরার বাড়িতে ঢুকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের হুমকী দেয়।শুধু তাই নয়,তাকে সমাজচ্যুত ঘোষণা করে অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা, যাতায়াত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় সমাজপতিদের শরণাপন্ন হলে তারাও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়।অবশেষে নিরুপায় হয়ে ঈদের আগের দিন দেলেরা সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।তবে অভিযোগ দায়েরের পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে না যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে প্রভাবশালী ইসমাইল গংদের ভয়ভীতি,প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং সামাজিক বর্জনের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন বিধবা নারী দেলেরা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।