মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন” জিন্দানী ব্লাড ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পনে রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বিএনসিসির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “বিএনসিসি ডে” উদযাপিত রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’

অভয়নগরে বেসরকারি হাসপাতালের ছড়াছড়ি, রোগী নয় মূল লক্ষ্য টেস্ট আর টাকা

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা। স্থানীয়দের ভাষায়, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা (টেস্ট) করানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অপ্রয়োজনীয় টেস্টের চাপ, একাধিক রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ জ্বর, পেটব্যথা বা সামান্য শারীরিক সমস্যার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও রোগীদের একাধিক পরীক্ষার তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রোগীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হলেও বিকল্প না থাকায় পরীক্ষা করাতে বাধ্য হন তাঁরা। নওয়াপাড়ার এক রোগীর স্বজন বলেন, ডাক্তার দেখানোর পরেই বলা হলো রিপোর্ট ছাড়া চিকিৎসা শুরু হবে না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে গেল। কমিশননির্ভর রেফারেল অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কিছু চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে কমিশনভিত্তিক সমঝোতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রোগী পাঠানোর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। প্রশ্নবিদ্ধ অবকাঠামো ও জনবল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রশিক্ষিত জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। তবুও বড় সাইনবোর্ড ও প্রচারণার মাধ্যমে রোগী আকর্ষণ করা হচ্ছে। এতে ভুল রিপোর্ট বা ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি চোখে পড়ে না। ফলে অনিয়ম থাকলেও তা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

অভয়নগরের কয়েকজন সচেতন নাগরিক মনে করেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স, জনবল ও পরীক্ষার মান নিয়মিত যাচাই করা জরুরি। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসা হতে পারে, কিন্তু রোগীর জীবন নিয়ে নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাত মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নওয়াপাড়ার বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে, এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর