সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’ রাণীনগরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেড়িয়ে প্রাণ গেল কিশোরের! আহত ৫ ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরল ৩৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ভাঙ্গুড়ায় বাহারি রঙের মোড়কজাত করে নিম্নমানের ঘি বিক্রির অভিযোগ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
ছবি: ভাঙ্গুড়ায় প্লাস্টিকের কৌটাতে “ঘি বাড়ী”র বাহারি রঙের লেবেল লাগাচ্ছে শ্রমিকরা।
ছবি: ভাঙ্গুড়ায় প্লাস্টিকের কৌটাতে “ঘি বাড়ী”র বাহারি রঙের লেবেল লাগাচ্ছে শ্রমিকরা।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঘি তৈরির কারখানা না থাকলেও বাহারি রঙের লেবেল লাগিয়ে (মোড়কজাত করে) নিম্নমানের ঘি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে “ঘি বাড়ী” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারি সাইফুল ইসলামের দাবি অন্য জায়গা থেকে ঘি কিনে এনে তার প্রতিষ্ঠানে লেবেল লাগান কিন্তু তিনি কোন ভেজাল কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। উপজেলা পৌর সদরের হারোপাড়ার বিশ্বাস পাড়ার মত জায়গায় এমন অবিশ্বাস্য (বাহারি রঙের লেবেল লাগিয়ে প্রতারণার) কাজ হলেও প্রসাশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ডালডা আর পাম অয়েলের সঙ্গে সামান্য পরিমাণে ঘি ফ্লেভার আর রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খাঁটি মানের গাওয়া ঘি। আর “ঘি বাড়ী” নাম দিয়ে কৌটাজাত করা হচ্ছে। এরপর বিএসটিআই এর সিল বসিয়ে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাট বাজারে। পবিত্র মাহে রমজান মাসকে টার্গেট করে আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন “ঘি বাড়ী” নামের এ প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলাম। রমজান উপলক্ষে ঘিয়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তৈরি এসব ভেজাল ঘি এ এখন সয়লাব হয়ে হচ্ছে বাজার গুলোতে। রমজান ছাড়াও প্রতিমাসে প্রায় ৩০ হাজার কেজি এ ভেজাল ও নিম্নমানের ঘি সয়লাব হচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের হারোপাড়া বিশ্বাস পাড়ায় স্থানীয় আলতাব হোসেন আলতু নামের এক বাসিন্দার বাড়ির পাশে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে নাম দেয়া হয়েছে “ঘি বাড়ী”। “ঘি বাড়ী” নাম থাকলেও নেই কোন ঘি উৎপাদনের কারখানা। ভাড়া কক্ষে চার জন শ্রমিক মিলে চলছে কৌটাতে “ঘি বাড়ি” নামের বাহারি রঙের লেবেল (মোড়কজাত) লাগানোর কাজ। পাশেই আছে ঘি ভর্তি বেশ কয়েকটি ড্রাম। শ্রমিকদের হাতে নেই হান্ড গ্লোভস পড়নে নেই স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক। পাশেই পড়ে আছে “ঘি বাড়ী” নামে কয়েক শত বাহারি রঙের লেবেল (মোড়কজাত)। লেবেলের গায়ে লেখা ৫০০ গ্রাম ঘি ১০৫০ টাকা ও ১ কেজি ঘি ২১০০ টাকা। তবে ঠিক কোথা থেকে ওই সকল ঘি নিয়ে এসে মোড়কজাত করছেন তার সঠিক উত্তর দিতে পারেনি শ্রমিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বাস পাড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, বিভিন্ন জায়গা থেকে নিম্নমানের ও ভেজাল ঘি কম দামে কিনে এনে “ঘি বাড়ী” প্রতিষ্ঠানে মোড়কজাত করে নিজস্ব কারখানায় থেকে উৎপাদিত ঘি নামে প্রচার করে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্রি করেন। নিম্নমানের ওই সকল ঘি তৈরিতে পাম ওয়েল, ডালডা ও সামান্য পরিমাণ খাঁটি ঘি দেওয়া হয়। এ মিশ্রণে সামান্য পরিমাণে রং ও ব্যবহার করে এই প্রতারকরা।

ভেজাল ঘি তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে সাইফুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী শাহজাদপুর উপজেলার একটি কারখানা থেকে তিনি ড্রামে করে ঘি কিনে এই গোডাউনে এনে প্যাকেটিং করেন। তিনি আরো বলেন, এক সময় বিএসটিআই এর অনুমোদন নিয়ে আমাদের “ঘি বাড়ীর” ঘি বাড়িতেই তৈরি হতো কিন্তু এখন বাইরে থেকে কিনে এনে মোড়কজাত করে বিক্রি করছি, তবে এ ঘি এর মান খুব ভালো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। তবে দ্রুত ওই গোডাউন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর