মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে জমি কিনে বিপাকে মালিকপক্ষ : চাঁদাবাজি, অপহরণ ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ 

নিহাল খান, রাজশাহী প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন

রাজশাহী মহানগরীর বিলসিমলা এলাকায় যৌথভাবে জমি কিনে ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে মারাত্মক চাঁদাবাজি, অপহরণ, হুমকি ও আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন এক জমি ক্রয়ের মালিকপক্ষ। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় প্রজেক্টের সাইট ম্যানেজারকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, আরডিএ-এর (রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) এক নোটিশ ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
​এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা মোঃ তহুরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা গত ২০২৪ সালের ২৮ মে রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলসিমলা এলাকার বহরমপুর মৌজায় ৪ কাঠা জমি কেনেন। জমি ক্রয়ের পর সেখানে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হলে স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃ মাহবুব আলী ও তাঁর ১০-১৫ জনের একদল সহযোগী কাজে বাধা দেন।
​অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতেই অভিযুক্তরা প্রজেক্টের সাইট ম্যানেজারের ওপর নিম্নমানের রড, সিমেন্ট, ইট ও পাথর কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে সম্মত না হওয়ায় গত ২০২৫ সালের ৭ মার্চ সাইট ম্যানেজার মোঃ শিহাব উদ্দিনকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হলেও আতঙ্কে তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান।
​পরবর্তীতে সজীব নামে নতুন এক সাইট ম্যানেজার দিয়ে কাজ শুরু করা হলে গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে আসামীরা পুনরায় কাজ বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে প্রজেক্টের মালিকপক্ষ উপস্থিত হলে তাদের কাছে সরাসরি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
​এদিকে, একই প্রজেক্টে অনুমোদিত নকশা না মেনে বেজমেন্ট ও ছাদ নির্মাণের অভিযোগ তুলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে ইমারত নির্মাণের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন ও নকশার ব্যত্যয় ঘটানোর অভিযোগ এনে ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়।
​তবে ভুক্তভোগীরা গত ৩ আগস্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের সময় চেয়ে আরডিএ-তে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, আরডিএ’র সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করা সত্ত্বেও কেবল চাঁদাবাজির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই স্থানীয় মাহবুব আরডিএ-তে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ও স্থানীয় দলবল পাঠিয় বাধা তৈরি করছেন। পরবর্তীতে আদালতের স্মরণাপন্ন হলে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে কাজ করার পক্ষে সুনির্দিষ্ট আদেশ লাভ করেন তারা। তবে অভিযোগ উঠেছে, হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাহবুব আলী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি রূপ বদলে বর্তমানে প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভি্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব আলী বলেন, আমার সাথে তাদের তেমন ঝামেলা নাই। বিল্ডিংটি আরডিএ’র নিয়ম মেনে করা হয়নি বিধান আরডিএ কতৃপক্ষ তা বন্ধসহ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। আমার বাড়ির পাশে তারা বিল্ডিং তৈরি করছে কিন্তু রাস্তা ছাড়ার কথা যেটুকু তা তারা ছাড়েনি। ইজমাইলি জায়গাও ছাড়েনি বিধায় আমি আরডিএতে অভিযোগ দিয়েছি। চাঁদাদাবি’র বিষয় সঠিক নয়।
জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনেক আগে বিষয়ে এখন না দেখে কিছু বলা যাবে না, আদৌও অভিযোগ দিয়েছে কিনা তা আগে দেখতে হবে। তবে কেউ যদি থানায় অভিযোগ দেয় আমরা সেটা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। এমন যদি হয় তবে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কথা বললে আরডিএ’র অথরাইজ অফিসার রায়হানুল ইসলাম রনি বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা ওই বিল্ডিং এর বিষয় গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর