কৃষক বিল্লাহ হোসেন। তার স্বপ্ন ছিল উন্নত জাতের লাউ চাষ করবেন। উপজেলার অভিরামপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের পরিত্যক্ত ৩৩ শতাংশ জমি
আটঘরিয়া পৌর সভার কৃষক বিল্লাহ হোসেন
বাৎসরিক ১৫ হাজার টাকা লিজ নিয়ে লাউ চাষ শুরু করেন।
বাড়ির সামনে ৩৩ শতক পরিত্যক্ত জায়গায় জীবনের প্রথম বার শাহেনশাহ জাতের উচ্চ ফলনশীল লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন বিল্লাহ হোসেন নামের এক প্রান্তিক কৃষক। ওই প্রান্তিক কৃষকের বাড়ি আটঘরিয়া পৌর সভার বটতলা গ্রামে।
৩৩ শতক জমিতে লাউ চাষে তার খরচ মাত্র ৫০ হাজার হাজার টাকা হয়। তিনি এযাবৎ লাউ বিক্রয় করেছেন ২ লাখ হাজার টাকা। আরও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রয় করার আশা করছেন তিনি।
খরচ বাদে কৃষক বিল্লাহ হোসেনের ভালো টাকা লাভ হবে বলে মনে করছেন এই কৃষক। কম খরচ ও অল্প সময়ে এমন লাভের হিসাব দেখে লাউ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।
কৃষক বিল্লাহ হোসেন এবার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে লাউ চাষে অভাবনীয় লাভ পেয়ে খুশি হয়েছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, শাহেন শাহ জাতের একটি উচ্চ ফলনশীন লাউ জাত। এ জাতের লাউ বপনের ৫ থেকে ৭ দিনে চারা হয় এবং ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল ধরে।
এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা যায়। এ লাউ দেখতে সুন্দর ও তরতাজা। খেতেও সুস্বাদু। এছাড়া বাজারে চাহিদা ও ফলনে বেশি হওয়ায় এ লাউ চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক বিল্লাহ হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন সবজি বাগানের মাচায় ঝুলছে গোলে রঙের শাহেনশাহ জাতের অসংখ্য লাউ। যে দিকে তাকানো যায় শুধু লাউ আর লাউ। বাগানের এসব ঝুলন্ত কচি লাউ দেখলে যে কোন মানুষের চোখ জুড়িয়ে যায়।
কৃষক বিল্লাহ হোসেন এ সবজি বাগানে জৈব সারের সাথে সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছেন। অন্য দিকে কীটনাশক ও বালাই নাশক ব্যবহারের প্রয়োজন বেশি হয়নি। এজন্য বিষমুক্ত নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব বিল্লাহ সবজি বাগানের লাউ খেতে যেমন সুস্বাদু বাজারেও এ সবজির চাহিদা বেশি।
কৃষক বিল্লাহ জানায়, বাড়ির সামনে আনুমানিক ৬৬ শতাংশ জায়গা সারা বছর পরেই থাকে। অভিরামপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে বাৎসরিক ১৫ হাজার টাকা লিজ নিয়ে শাহেন শাহ জাতের লাউ চাষ শুরু করি।
উপসহকারী কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে জীবনের প্রথমবার লাউচাষ শুরু করি। শাহেনশাহ জাতের লাউ বীজ সংগ্রহ করে প্রথম সপ্তাহে বপন করেছিলাম। দুই মাস পরিচর্যা করা পর আমার সবজি বাগানে অসংখ্য লাউ আসে।
আজ থেকে ১৫-২০ দিন আগে থেকেই লাউ বাজারজাত করা শুরু করেছি। এবার বাজারে তরিতরকারির দাম থাকায় লাউয়ের দামও ভালো পাচ্ছি।
ওজন ভেদে প্রতিটি লাউ খুচরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পাইকারী ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি। আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করার আশা করছি। মাচা তৈরী সহ আমার মোট খরচ ৫০ হাজার টাকা।
কৃষক বিল্লাহ আরও জানায়, আমি উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় পার্টনার প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ আমি এই শাহেনশাহ জাতের লাউ চাষ শুরু করি। লাউচাষে আমি কোন কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করি নাই। পঁচা কচুরীপানা, জৈব সারের সাথে সামান্য পরিমান রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছি। এবছর আমি ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল হক জানান, কৃষক বিল্লাহ হোসেন এই শাহেনশাহ জাতের বয়োপেস্টসাইট ব্যবহার করে কি ভাবে লাউ চাষ করা হয় এবিষয়ে তাকে সর্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়ে থাকে।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রবি মৌসুমে আটঘরিয়া উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভা বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে।
কৃষকরা বয়ো পেস্টিসাইট ব্যবহার করে বিষমুক্ত লাউ চাষ করছেন। বাজারে লাউয়ের চাহিদা থাকায় ও নায্য দামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।