পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে এক সন্তানের জননী রিমা খাতুন (২৫) তার নিজ সন্তান তাওহীদ হোসেন (৪)কে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।
এঘটনায় নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজনের মধ্যে বিষয়টি টের পেয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর রাতে ভরতপুর গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর গ্রামের বাসিন্দা সিঙ্গাপুর প্রবাসী টুটুলের স্ত্রী রিমা খাতুন তার স্বামীর অবর্তমানে দুই বছর যাবত এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল।
এ ঘটনা বাড়ির লোকজনের কাছে জানাজানি হলে ইতিপূর্বের রিমা খাতুন ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আর করবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভালোভাবে সংসার করে আসছিল।
হঠাৎকরে ঘটনার আগের দিন পুনরায় বাড়ির লোকজন রিমার মোবাইলে ওই প্রেমিক যুবকের ছবি ও কথোপকথন ধরে ফেললে রিমা খাতুন মনের দুঃখে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের সন্তানকে ঘটনার রাতে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এবং নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে।
বিষয়টি বাড়ির লোকজন টের পেয়ে রিমাকে রশি থেকে নামিয়ে থানায় খবর দিলে থানার তদন্ত ওসি রশিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিশুর লাশ মায়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠান এবং রিমা খাতুনকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে তারা আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এলাকার মানুষের ধারণা অপবাদের হাত থেকে রক্ষার জন্য রিমা মনের দুঃখে আগে নিজের সন্তানকে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
নিহত তাওহীদের দাদি রহিমা তার পুত্রবধূর এই অপকর্মের জন্য ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় একদিকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে অপরদিকে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।