স্বামী-শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ১৮ বছরের মাসুরা, মামলা দায়ের আটক তিনজন তদন্তে প্রশাসন।যশোরের অভয়নগরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে এসিড দিয়ে দগ্ধ ও বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানোর অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিলকুল এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ১৮ বছর বয়সী গৃহবধূ মাসুরা খাতুন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এঘটনায় অভয়নগর থানা পুলিশের অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ৩১ মার্চ গভীর রাতে পুলের অভিযানে অভিযুক্ত তিনজকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে একই এলাকার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মাসুরা খাতুনের সঙ্গে আল-আমিন শেখ (২১)-এর বিয়ে হয়। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও এলাকাবাসীর সহায়তায় বিয়েটি সম্পন্ন হয় এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের জন্য চাপ ও নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী আল-আমিন শেখ, শ্বশুর মিলন শেখ ও শাশুড়ি নাজমিন বেগম নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান মাসের ২৫ তারিখে তাকে ‘স্পিড’ পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ ও এসিড মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এসিড ঢেলে দেওয়া হয়, যা মানবতাকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নির্মম ঘটনা। অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, রান্নার সময় ভাতের ফ্যান ঝরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সামান্য দগ্ধ হয়েছে মাসুরা। তবে স্থানীয়রা এই বক্তব্যকে ‘দায় এড়ানোর অপচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও গুরুতর। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুজ্জামান বলেন, ওই বিষয়ে মামলা হয়েছে, অভিযুক্ত তিন আসামিকে আটক করে বিচারের নিমিত্তে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, অনেকেই বলছেন, এ ধরনের বর্বর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজে এর পুনরাবৃত্তি থামবে না। যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি আজও গ্রামবাংলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ, এমন মন্তব্য সচেতন মহলের।