শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

অভয়নগরে ধর্ষণের পর সুমাইয়াকে সেপটি ট্যাংকে নিক্ষেপ, মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানাল

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

​যশোরের অভয়নগরে এক কিশোরীর ওপর যে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। আপন চাচাতো ভাইয়ের লালসার শিকার হওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল মলমূত্রের সেপটিক ট্যাংকে।  বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যমে-মানুষে পাঞ্জা লড়ছে ওই কিশোরী। ‎​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাপাশহাটি গ্রামের আজাদ বিশ্বাসের মেয়ে সুমাইয়া  বাড়িতে একা ছিল। বাবা জেলখানায় থাকায় তার মা স্থানীয় একটি মিলে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। শনিবার (১৪ মার্চ) শেষ রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, তখন সুমাইয়ার ঘরে প্রবেশ করে তার আপন চাচাতো ভাই আবির (২০)। একা পেয়ে সুমাইয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। ‎​ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নৃশংসতার চরম সীমায় পৌঁছায় আবির ও তার মা শারমিন বেগম। তারা সুমাইয়াকে বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে ফেলে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, মেয়েটি যেন কোনোভাবেই ওপরে উঠে আসতে না পারে, সে জন্য বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে ট্যাংকির ভেতরে বারবার গুঁতানো হয়। একপর্যায়ে সুমাইয়া নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।

‎​মৃত্যুপুরী থেকে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ট্যাংকির ভেতর থেকে উঠে আসে সুমাইয়া। বিবস্ত্র ও মলমূত্রে মাখামাখি অবস্থায় পাশের একটি বাড়ির উঠানে গিয়ে আর্তনাদ করতে করতে লুটিয়ে পড়ে সে। ভোরে তার গগনবিদারী চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে এই বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত আবিরকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। ‎​এ বিষয়ে অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও লোমহর্ষক। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়েছি। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‎​এদিকে, অভিযুক্ত আবিরের মা শারমিন বেগম ঘটনা অস্বীকার করলেও স্থানীয়রা তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এলাকাবাসী এই নজিরবিহীন পাশবিকতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর