বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ভাঙ্গুড়ায় মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি কক্সবাজারে খোরশেদ হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৫, নেপথ্যে ছিল ছিনতাইয়ের চেষ্টা ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উদ্যোগে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে বিনামূল্যে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন বিতরণ সাপাহারে গনহত্যা দিবদ উপলক্ষ্যে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গোপালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃ*ত্যু শশুড় বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজের দুইদিন পর নদীতে মিলল জাহিদের মরদেহ, দোষীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন হেমনগরে বেলুয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ জমকালো ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী  অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন

ভরা মৌসুমে সারশূন্য মাঠ, দায় কার, কৃষি মন্ত্রণালয় না দেশ ট্রেডিং?

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

‎ভরা মৌসুমে সার সংকটের হাহাকার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভুল সিদ্ধান্ত ও দেশ ট্রেডিংয়ের ব্যর্থতায় চাষাবাদ ঝুঁকিতে।

‎কৃষি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তাদের গোপন কারসাজিতে যথাসময়ে সার আমদানির অনুমতি না দেয়ায় এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে অনভিজ্ঞ একটি প্রতিষ্ঠানকে অধিক পরিমাণ সার আমদানির অনুমতি দেয়ার খেসারত গুনছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ কৃষক। সার আমদানিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্যদিতে সউদ্দেশ্যমূলকভাবে সময়ক্ষেপন করায় এবং যথাসময়ে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে ব্যার্থতার পরিচয় দেয়ায় সার সংকট চরম আকার ধারন করেছে। ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের কৃষককূল। হুমকিতে পড়েছে চাষাবাদ। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশনসহ সার সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠনের নানা আন্দোলন কর্মসূচির পরও কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের খাম খেয়ালি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় দেশের বাজারে এখন ভরা মৌসুমে সারের আকাল দেখা দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ সার আমদানি হলেও অনভিজ্ঞ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দেশ ট্রেডিংয়ের যথাসময়ে পর্যাপ্ত সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিলারদের কাছে সরবরাহে ব্যার্থতার কারনেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ডিলার ও সার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো দাবি করেছে। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় নিজেদের খামখেয়ালিপনার দায় এড়াতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দেশ ট্রেডিংকে নাম মাত্র সতর্কতামূলক চিঠি দিয়ে আইওয়াশ করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। জানাগেছে. ফসল উৎপাদনের ভরা মৌসুমে দেশজুড়ে ভয়াবহ সার সংকট তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় ও মূল্যে সার সরবরাহে চরম ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও বে সরকারী আমদানীকার প্রতিষ্ঠান  দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের (ডিটিসি) বিরুদ্ধে। এর সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন মাঠপর্যায়ের কৃষকরা, যাদের উৎপাদন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ‎‎এ সংকটের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে উপজেলা কৃষি অফিসার, অভয়নগর, যশোর কর্তৃক পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে। স্মারক নং ১২.০১.৪১০৮.০০০.০৭১.১৬.০০৮.২৫.১৩০৯, তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের কন্ট্রোলার আফিফুর রশিদ খান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন জেলার সার ডিপোতে কোনো আপডেট নেই। ফলে ডিলাররা সময়মতো সার উত্তোলন করতে পারছেন না। ‎‎চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত সার বাবদ অর্থ পরিশোধের তৎপরতা থাকলেও বাস্তবে ডিপোগুলোতে সরবরাহ কার্যক্রম থমকে আছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিলাররা দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন। ‎‎উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন চিঠিতে স্পষ্ট করে বলেন, ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে ডিলারদের জন্য বরাদ্দকৃত সার দ্রæত ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ নিশ্চিত না হলে কৃষকের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ‎‎সরেজমিনে জানা গেছে, অনেক এলাকায় কৃষকরা একাধিকবার ডিলারের কাছে গিয়েও সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বোরো ও রবি শস্যের জন্য সময়মতো সার প্রয়োগ না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। ‎‎একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, সময়মতো সার না পেলে ফলন নষ্ট হবে। সার না থাকলে চাষ করবো কীভাবে? ‎‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে অদক্ষ প্রতিষ্ঠান দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনকে সারের ভর্তুকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত ও দুর্বল তদারকির ফলেই ভরা মৌসুমে সার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। ‎‎একজন কৃষি বিশ্লেষক বলেন, ভরা মৌসুমে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটা সরাসরি কৃষি উৎপাদনের ওপর আঘাত। ‎‎সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ‎‎এ পরিস্থিতিতে কৃষক ও ডিলাররা অবিলম্বে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যর্থতা তদন্ত এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায় নির্ধারণ করে জরুরি ভিত্তিতে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত বছর গুলোতে সার আমদানি যথাযথ সময়ের তিন মাস অতিক্রম হওয়ার পর বিশেষ সুবিধায় একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সুবিধা দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কতিপয় অসাধূ কর্মকর্তা খামখেয়ালিভাবে কালক্ষেপন করে। এনিয়ে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশন, সার ডিলার এ্যাসোসিয়েশনসহ সার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন রাজধানী ঢাকাসহ যশোর, নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন ও কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারসহ কৃষি মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় সেসব দাবি থোড়াই কেয়ার করে অনভিজ্ঞ দেশ ট্রেডিংকে এককভাবে বাড়তি সুবিধা দিতে সময়ক্ষেপন করে সার আমদানি ও সরবরাহের অনুমতি দেয়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন স্বাধীনতার পর কৃষি মন্ত্রনালয়ে এত অদক্ষতা ও দূর্নীতি হয়নি কখনো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর