মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অনলাইন ক্যাসিনো: নীরব মহামারিতে ডুবছে যুব সমাজ – সাজিদুর রহমান সুমন কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আলোচনায় গিয়াস উদ্দিন জিকু: সাধারণ মানুষের দাবি তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল  স্বামীর সম্পত্তির অংশ দাবী করায় সমাজচ্যুত : প্রাণনাশের হুমকী আটঘরিয়ায় “ঈদ আনন্দ সবার সাথে, মাদককে না বলুন দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তুলুন” জিন্দানী ব্লাড ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পনে রাত্রিকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বিএনসিসির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও “বিএনসিসি ডে” উদযাপিত রবিউল শুভ’র কণ্ঠে, আমিনুল ইসলাম মিন্টুর কথায় ঈদের গান ‘দুঃখ দিলি বিকল্প পাইয়া’

মানতলা বিলে পদ্মফুলের হাতছানি

মোঃ মুন্না হুসাইন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মানতলা বিলটি এমনই পদ্মফুলে সজ্জিত হয়ে নিজের সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে।

মঙ্গলবার (৩ আগষ্ট ) সরজমিনে গিয়ে বিলটি ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে বাঘলপুর মৌজায় অবস্থিত বিস্তৃর্ণ বিলজুড়ে সাদা ও গোলাপী রঙের পদ্মফুল ফুটে আছে। মানতলা নামে পরিচিত এ বিলের উত্তর পশ্চিমে চর কয়ড়া, দক্ষিণে বাঘলপুর ও পূর্বে রয়েছে ভদ্রকোল গ্রাম। এ বিলের আবদ্ধ পানিতে শাপলা-শালুক আর পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। শাপলা ফুল না ফুটলেও হাজার হাজার পদ্মফুল ফুটেছে বিলটিতে। সারি সারি পদ্মফুলের সৌন্দর্য বিনোদনপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তবে প্রতিদিন শত শত ফুল ছিঁড়ে নিয়ে বিলটির সৌন্দর্য নষ্ট করছেন অনেকেই। একটি ফুল তুলতে গিয়ে নষ্ট করছেন কয়েকটি ফুল।

কয়ড়া কৃষ্ণপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই দেখি, এ বিলে বর্ষাকালে পদ্মফুল ফোটে। আমরা পদ্মফুলের পাতা কুড়িয়ে হাটে বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে আমাদের সংসারও চালিয়েছি। তখন অনেক অভাব ছিল।

বাঘলপুর গ্রামের ওমর আলী সরকার (৮৫) বলেন, বর্ষা এলেই পদ্মফুল ফোটে। আমরা ছোটবেলায় শুকনো মৌসুমে অনেক পদ্মগাছের বীজ কুড়িয়ে খেয়েছি। এখন আর বীজ দেখা যায় না, তবুও বর্ষায় পদ্মফুলের গাছ জন্মে।

চরপাড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ইয়াকুব আলী বলেন, এক সময় হাটে এ বিলের পদ্মপাতায় লবণ, মাছ, খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হতো। পদ্মপাতায় মেজবানিও খাওয়ানো হতো।

ইদ্রিছ আলী, মৎস্য চাষি পর্বত আলী, হাট কয়ড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আফসার আলীসহ অনেকেই বলেন, ইরি মৌসুমে সেখানে ধানের আবাদ হয়। শীত মৌসুমে সবজিরও আবাদ হয়। ওই সময় পদ্মগাছের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিলটি। তখনই দেখা যায়, হাজার হাজার পদ্মফুল ফুটে আছে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এ পদ্মফুল ফুটে থাকে।

স্থানীয় ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম নয়ন বিলটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, বছরের অন্তত চার মাস বিলটিতে পদ্মফুল ফুটে থাকে এবং সৌন্দর্য ছড়ায়। এসময়টায় পদ্মফুল যেন কেউ না তোলে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নজরদারি প্রয়োজন।

উল্লাপাড়া কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, জলজ উদ্ভিদ পদ্ম বহু বর্ষজীবী। স্কন্দের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ গাছটিও বাড়তে থাকে। একটি গাছে একটি ফুল ফোটে। এটি সাদা, লাল ও নীল রঙের হয়। ফুটন্ত ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। রাত থেকে সকালের মধ্যে ফুল ফোট। আর রোদের তীব্রতায় সংকুচিত হয়। রোদ কমে গেলে আবার প্রস্ফুটিত হয়।

বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলের পানিতে পদ্ম ফুল ফুটতে দেখা যায়। শরতে ও হেমন্তেও এ ফুল থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর