শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

সপ্তম বারের মতো বিয়ে করলেন স্কুল শিক্ষিকা

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃসপ্তম বারের মতো বিয়ে করলেন নিশ্চিন্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার টপি। এর আগেও তিনি বিয়ে করেছেন ছয়বার এবং প্রত্যেকবারেই মোটা অঙ্কের মোহরানা নিয়ে তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

রাবেয়া আক্তার নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের মেয়ে ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

গেল রোববার একই উপজেলার গোলাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিককে তার সপ্তম স্বামী হিসেবে বিয়ে করেন। বিয়ে পড়িয়েছেন নওগাঁর কাজী কামাল হোসেন।

পাঁচ বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে টপি সবার ছোট। বড় ভাই খোরশেদ আলম হান্নান নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার উত্তর রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং মেজভাই লিটন ধামুইরহাট উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পরিবার এবং প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, স্কুল শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার টপি দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে কিশোরী বয়সে তার মেজ ভাই লিটনের শ্যালক রুবেলকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন। বিয়ের পরে সাফল্যের সঙ্গে এসএসসি পাসও করেন টপি। কলেজে ভর্তির কিছু দিন পরে বেপরোয়া আচরণের জন্য রুবেল তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার টপিকে তালাক দেন।

এরপর কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় তিনি দ্বিতীয় বারের মতো বিয়ে করেন। বিয়ে করেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইমন নামের জনৈক বিজিবি সদস্যকে। বিয়ের কিছুদিন পরে বিজিবি সদস্য ইমন স্ত্রীর চারিত্রিক সমস্যার কারণে তাকে তালাক দিলে টপি বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহায়তায় পুনরায় তাকে বিয়ে করেন এবং তৃতীয় বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

এর কিছুদিন পরে ওই বিজিবি সদস্য তাকে আবারও তালাক দিলে রাবেয়া আক্তার (আদালতের মাধ্যমে) ইমনের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা দেনমোহর আদায় করেন।

ইতোমধ্যে রাবেয়া আক্তার গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তিনি চতুর্থ বারের মতো বিয়ে করেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার পূর্বপারুলিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে স্বাস্থ্য সহকারী সোহেল রানাকে।

সোহেল রানারও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ভালোই চলছিল সোহেল রানা এবং টপির সংসার। দুজনে এক ছাদের নিচে বসবাস করলেও হঠাৎ করে একদিন টপি জানতে পারেন যে সোহেল রানা বিয়ের তিন মাস পরেই তাকে গোপনে তালাক দিয়েছেন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে পুনরায় তাদের বিয়ে হয়। যেটি টপির পঞ্চম বিয়ে এবং সোহেলের তৃতীয়। কিন্তু বিধিবাম এবারেও স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হন তিনি। জয়পুরহাট আদালতে মামলা করেও এ বিয়ে এবং সংসার রক্ষা করতে পারেনি রাবেয়া আক্তার টপি।

অবশেষে জয়পুরহাট সদর থানায় বসে থানা পুলিশের সহায়তায় চার লাখ টাকার বিনিময়ে তালাকনামা গ্রহণ করে সোহেল রানার বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগ প্রত্যাহার করেন টপি।

এরপর তিনি ষষ্ঠ বিয়ে করেন ঢাকায় কর্মরত সাগর নামের একজনকে। নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনের জন্য ঢাকায় গিয়ে পরিচয় হয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত একে এম সাগরের সঙ্গে। সাগরের ঢাকার ভাড়া বাসায় কয়েকদিন থেকে হাইকোর্ট থেকে জামিনের কাজ শেষ করে নিজের বাসায় ফিরে আসেন টপি।

সাগরের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থানকালে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন টপি। টপি পূর্বে কখনো বিয়ে করেনি এমন কথা বিশ্বাস করে সাগর ঢাকার বাসাতেই তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে টপি এবং সাগর প্রত্যেক সপ্তাহে ঢাকা-জয়পুরহাট এবং জয়পুরহাট-ঢাকা দুজন দুজনের বাসায় যাতায়াত করতেন।

বিয়ের কিছুদিন পরে রাবেয়া আক্তার টপির বহু-বিবাহের ঘটনা জানতে পেরে সাগর তাকে তালাক দেয়। বিয়ের কাবিননামায় সাগর তার ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করায় রাবেয়া আক্তার তার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

নিশ্চিন্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার টপি বলেন, আমি একাধিক বিয়ে করেছি, আপনাদের সমস্যা কি।আর এ বিষয়ে ফোন করবেন না বলে মোবাইল কেটে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর