রবিবার , ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে সেলাই মেশিনের শব্দে মুখরিত দর্জীপল্লী

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৪

মহিমান্নিত মাস রামাদ্বানের অন্তিম সময়। আর দু-দিন পরই বিশ্ব মুসলিমের খুশির দিন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দিন কিংবা রাত বিরাহীন ব্যস্ত সময় পার করছে সিলেটের দর্জীপাড়াগুলো। ঈদে সকলেই চাই নতুন কাপড়। কেউ সন্তুষ্ট রেডিমেট পোশাকে আর কারো পছন্দ টেইলারের তৈরী পোশাকে। আর তাই মন মতো ঈদের পোশাক তৈরী করতে দর্জী পাড়ায় ভীড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। আর ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিরামহীন নির্ঘুম রজনী পাড় করে কাজে ব্যস্ত দর্জীপাড়ার দর্জিরা।

ক্রেতাদের চাহিদা ও আধুনিকতার সংমিশ্রনে পোশাক তৈরী করছেন টেইলাররা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছেন দর্জীপাড়ার কারিগররা। দর্জীপাড়া ঘুরে দেখা যায়, সিলেটের জিন্দাবাজার, করিমউল্লাহ মার্কেট, রংমহল টাওয়ার, মসজিদ মার্কেট, শেখঘাট, তালতলা পয়েন্ট, কুমারপাড়া, মদিনামার্কেট, কাজীম্যনশনসহ সিলেটের দর্জীপাড়াগুলোর কারিগররা ব্যাস্ত নর-নারীদের পছন্দের পোশাক তৈরিতে। ইতিমধ্যে দর্জির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের লাইন লেগেছে তাদের পছন্দের পোশাক নিতে। টেইলারিং দোকানের কারিগররা ব্যাস্ত অর্ডার ডেলিভারি দিতে।

ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে অর্থাৎ রামাদ্বানের অন্তিম সময়ে দর্জিপাড়ার কারিগরদের ব্যস্ততা চরম আকার ধারণ করেছে। দর্জিপাড়ার কারিগরদের সাথে কথা বলতে গেলে এক কারিগর বলেন ভাই খুবই ব্যস্ত তাই কথা বলতে পারতেছিনা। ঈদের পরে আসেন জমিয়ে কথা হবে। প্রতিদিন সাজসকাল থেকে মধ্যরাত্রী পর্যন্ত দর্জিপাড়ায় শুধুই সেলাই মেশিনের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনা যায়না। সেলাই মেশিনের শব্দে মুখরিত সিলেটের সকল দর্জীপল্লী। দর্জিদের যেন দম ফেলারও সময় নেই। গ্রাহককের চিহিদা মেটাতে নিঘুম রজনী অতিবাহিত হচ্ছে তাদের। কারিগররা কেউ মাপ নিচ্ছে, কেউ কাপড় কাটছে, কেউ আবার সেলাই করছে, কেউবা বোতাম লাগিয়ে আয়রন করে  অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা সাজিয়ে রাখছে । এখন আর অর্ডার না নিলেও অর্ডার নেওয়া কাজ ঈদের আগে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে ।

অন্যান্য বছরে টেইলার্স গুলোতে রাজ্যের ব্যস্ততা আর সময়মত ডেলিভারী দিতে না পারার অজুহাতে অর্ডার নিতে অস্বিকৃতির কারনে এবার রোজার শুরু থেকেই টেইলার্স গুলোতে ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা আর মেয়েদের থ্রি-পিস, ব্লাউজ, বোরকা তৈরির অর্ডার ক্রেতারা আগেই দিয়ে দেন। রোজা যত বাড়ছে কাজের চাপ ততই বাড়ছে। আর তাতে বাড়ছে দর্জীপাড়ার কারিগরদের ব্যস্ততা। আর এইসব কাজ সময়মত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক টেইলার্সে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেছে। জনপ্রিয় টেইলার্সের মালিক সুলেমান জানান – রোজার আগে কাজের অর্ডার বেশি থাকায় ডেলিভারি দিতে হিমসিম খাচ্ছি। তিনি আরও জানান, কাজের অর্ডার এখন পর্যন্ত অনেক। নতুন করে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। উপশহরের এক গ্রাহক জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নতুন পোশাক পরতে । তিনি ছোটবেলা থেকেই তৈরি করা পাঞ্জাবি, পায়জামা ও শার্ট-প্যান্ট পরেন। প্রতি বছর দুই-তিন সেট পোশাক বানাতে হয়। ব্যতিক্রম হয়নি এবারের ঈদেও। এছাড়া ভাই, ভাগনাসহ পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জির দোকানে আসা। কারণ একটাই রেডিমেড পোশাকের চাইতে বানানো পোশাক টেকসই ও উন্নত। ঈদ উপলক্ষে দর্জিরা মজুরি নিচ্ছে বেশি। যদি দামটা একটু কম থাকতো তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভালো হতো । তবে দর্জিরা বলছে, ঈদকে সামনে রেখে গত বছরের চেয়ে এবছর প্রচুর অর্ডার আসছে । তাছাড়া দোকানভাড়া, দর্জি কারিগদের পারিশ্রমিক , বিদ্যুৎ বিলসহ সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ছেলেদের প্যান্ট ৩০০- ৩৫০ টাকা, শার্ট ২৫০-৩০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০-৪৫০ টাকা, পায়জামা ২০০ – ২৫০ টাকা মেয়েদের থ্রি-পিস ২০০ – ২৫০ টাকা, কামিজ ১৮০-২০০ টাকা মজুরি নেওয়া হচ্ছে।

তারা আরো জানান অন্যান্য সময়ে একটি প্যান্ট ,শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, মেয়েদেন থ্রি-পিস, কামিজসহ বিভিন্ন পোশাক থেকে বাড়তি মজুরি নেওয়া হচ্ছে ১০০টাকা। কিন্তু ঈদের সময় কারিগরদের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ায় এর মজুরি দাঁড়ায় ৪০০-৫০০ টাকা। তারা আরো বলেন, ভালো ব্যবসার জন্য ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময়ে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় এবং তা অব্যাহত থাকে চাঁদ রাত পর্যন্ত।  তবে দর্জি দোকানে পুরুষ গ্রাহকের চেয়ে নারীরা গ্রাহক বেশি। ছেলেদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির দোকান গুলোতে তেমন ভিড় না থাকলেও মেয়েদের পোশাক তৈরির দোকান গুলোতো রয়েছে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষনীয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।