সমকালীন ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হয়বতনগর এ.ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুফতি এ.বি.এম খলিলুর রহমানের বিধায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অডিটোরিয়ামে বিধায় সংবর্ধনানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিধায়ী শিক্ষককে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সম্মানন স্মারক, বই ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হয়বতনগর এ.ইউ. কামিল মাদ্রাসার সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, অমায়িক, অকুতোভয় কর্মবীর, উস্তাজুল উলামা, ফাযিলাতুশ শায়খ, মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান হুজুর। যিনি একাধারে ৪০টি বৎসর অত্র প্রতিষ্ঠানে ইলমে ওহীর জ্যোতি ছড়িয়েছেন। যার আলোয় আলোকিত ছিল হয়বতনগর মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী। ঈমানে ও আমলে যিনি ছিলেন পরিপূর্ণ এক আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। যিনি ছিলেন মানুষের প্রেরণার বাতিঘর। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন যাবত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ইমাম ও পাকুন্দিয়া উপজেলা মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন যায়গায় ওয়াজ মাহফিলে ওয়ায়েজিন হিসেবে ইসলামের দাওয়াতের কাজ করে যাচ্ছেন।
বিধায় শিক্ষককে সম্পর্কে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মুজাহিদ আহসান বলেন, এইতো গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে ৪র্থ গণ-বিজ্ঞপির কিছুদিন পূর্বে বাজিতপুরে হুজুরের সাথে এক মাহফিলে সাক্ষাৎ এ দোয়া চাইলে হুজুর বলেছিলেন হয়বতনগর মাদ্রাসায় ১ম চয়েজ দিতে। আল্লাহ তা’আলার মেহেরবানীতে হুজুরের সেই আশা (দোয়া) কবুল হয়েছিল। আজ ছিল এই মনীষীর শেষ কর্মদিবস। অল্পদিনে হুজুরের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বিশেষ করে বিভিন্ন মাহফিলে ও কর্মস্থলে হুজুরের খোশগল্প আমাকে মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতো। আজ থেকে হয়তো মধুর ঐ সময়গুলো একসাথে আর কাটাতে পারবোনা। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে হুজুর আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। হুজুরের এই বিদায়টা শুধুমাত্র শারীরিক বিদায়। তবে মনস্তাত্ত্বিক বিদায় আমাদের জীবদ্দশায় কোনোদিন হবে না ইনশাআল্লাহ। হুজুরের অবসর সময়টা কল্যাণের পথে ব্যয়িত হবে সেই প্রত্যাশা করছি। মহান রব হুজুরের হায়াতে বারাকাহ দান করুন। হুজুরের ছায়া আমাদের উপর দীর্ঘায়িত করুন।
উল্লেখ্য: তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলাধীন সুখিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ঠুটারজঙ্গল গ্রামের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সদরের হয়বত নগর এলাকাতে বসবাস স্থায়ীভাবে করছেন।