শুক্রবার , ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কর্মই জীবন দেখিয়ে দিচ্ছে রাণীনগরের আছমা বেগম

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

স্থান-কাল ভেদে বিভিন্ন ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন রাণীনগরের আছমা বেগম(৬০)। পিঠাপুলি, শাক-সবজি, বিভিন্ন আচার-আনুষ্ঠানে আটা-ঝাল লবণ মিশ্রিত হুরুম ভাজা, পাপর ভাজা আর আলু ভাজা বিক্রি করেন আছমা। তার স্বামী এবাদুল হক একজন ভ্যান চালক। দু’জন মিলে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ শত টাকা উপার্জন করে। তা দিয়েই চলে তাদের  জীবন।
রাণীনগর উপজেলা সদর, বড়গাছা কুজাইল, বেতগাড়ী, করজগ্রাম, আবাদপুকুর সহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বাজর, সড়কের মোড়ে কোন না কোন দোকানের ফাঁকা জায়গায় অস্থায়ী ভাবে  বসেছে বাহারি পিঠাপুলির শতাধিক দোকান। শীত মানই তো মজার মজার পিঠা, তাই প্রতিদিন বিকালে জমে উঠে পিঠাপুলি তৈরি বিক্রি আর খাওয়ার ধুম। ভাপা, চিতাই, সাতপুটি, মোলকা পিঠা। সব চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সাতপুটি পিঠা, এটি তৈরি করা হয় আল্প পানি, আটা, ঝাল লবণ ও পিঁয়াজ পাতা ঝুরি করে এক সঙ্গে মিশিয়ে তা মাটির তৈরি কড়াইয়ের মত সাতটি হালকা গভীর স্থানে ছোট ডাবু দিয়ে ঢলে দেওয়া হয়। যা জ্বলন্ত চুলায় কয়েক মিনিট রাখলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু পিঠা, এটি ধনিয়া পাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করা হয়, খেতে ভীষন মজা।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে সিম্বা বাজারের ব্রীজ সংলগ্ন সবজির দোকানের সামনে আছমা বেগমের পিঠার দোকান। বৃদ্ধ বয়সে তীব্র শীতের মধ্যে পিঠা বিক্রির ব্যবসা সম্পর্কে কথা শুরু হতেই তিনি বলেন, এছাড়া তো আর কোন উপায় নাই! রাণীনগর সদরের মধ্যরাজাপুর গ্রামে তার বাড়ি। তাদের ৩ ছেলে ১ মেয়ে। সবার আলাদা আলাদা সংসার। বেঁচে থাকতে হলে তো রোজগারপাতি করতে হবে। আর জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে কিছু না কিছু তো করতেই হবে। যতদিন বেঁচে আছি টিকে থাকার লড়াইয়ে হার মানতে নারাজ তিনি। ছেলেরা তাদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত, বৃদ্ধ বাবা-মা’র দিকে ফিরে তাকানোর সময় তাদের নেই। তাই নিজেরাই খেটে খাই। শীতের সময় পিঠা বিক্রি করি, বছরের অন্যান্য সময় বাড়ির উঠানে শাক-সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি আর এলাকায় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান গুলোতে অনেক লোক-সমাগম হয়, সেই সব জায়গায় হুরুম ভাজা, পাপর ও আলু ভাজা বিক্রি করি। আর আমার স্বামী ভ্যান চালায়। দু’জন মিলে প্রতিদিন ৫-৬ শত টাকা উপার্জন করি। এটা দিয়েই আমাদের বেশ স্বাচ্ছন্দে চলে।

আছমা বেগম প্রতিদিন  সাড়ে তিন শত টাকার পিঠা তৈরির উপকরণ কিনেন। পিঠা তৈরি ও বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই শত টাকা লাভ হয়। ভাপা পিঠা ১০টাকা, চিতই পিঠা ১০ টাকা এবং সাতপুটি ও মোলকা পিঠা প্রতি পিচ ৫ টাকা করে।

পিঠা খেতে আসা রশিদ দেওয়ান ও হান্নান মিনা জানান, তারা প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পিঠা খান, এই সব পিঠা তাদের পছন্দের। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ব্ধগতির জন্য পিঠা আকারে ছোট হওয়া সর্তেও  দামে বেশি।

আছমা বেগম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাড়তি আয়ের আশায়  অনেকেই  অন্যান্য পেশার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় এ ব্যবসা করছেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।