শুক্রবার , ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গৃহহীন নন, তবু সরকারি জমিতে পাকাবাড়ি ধনীর

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪
মাথাগোঁজার ঠাঁই ছিলনা মোসলেম উদ্দিনের। একটু ঠাঁই পেতে ধর্না দিয়েছিলেন অনেকের কাছেই। মোসলেম যেখানে বাস করতেন তার কাছাকাছি ছিল সরকারি (খাস) ভূমি। অবস্থা করুণ বলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানেই বাড়ি করে দিতে চেয়েছিলেন তাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে তড়িঘড়ি করে একটি পাকাবাড়ি করেন জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। আশাহত হয়ে পরিবারসহ অজানা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান মোসলেম। এ ঘটনা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের নাচনী ঘগোয়া গ্রামের।
জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের নাচনী ঘগোয়া গ্রামের মৃত বরিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোসলেম উদ্দিন ছিলেন সহায়সম্বলহীন একজন দিনমজুর। যিনি স্ত্রীসহ তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাস করতেন অন্যের ভিটায়। গত বছর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানতে পারেন রাস্তার ধারের ২০২ নম্বর দাগের ৮ শতক সরকারি জমির (খাস) কথা। আর তা ভোগ করছেন জয়নাল নামের অবস্থাসম্পন্ন এক চাকুরিজীবী ব্যক্তি।
জমিটি সরকারি হওয়ায় সেখানেই মোসলেমকে বাড়ি করে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি মো. আব্দুল মতিন সরকারসহ অনেকেই সংশ্লিষ্ট মেম্বার, চেয়ারম্যান ও তহশিলদারের সাথে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়রা মোসলেমের একটি মাত্র ঘর তোলার জন্য জয়নালের কাছে চেয়েছিলেন অন্তত ২ শতক জমি। তহশিলদারও এসেছিলেন সেখানে। কিন্তু ৮ শতক সরকারি জমির ২ শতকও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না জয়নাল। মূলরাস্তা সংলগ্ন ও উঁচুভিটা হওয়ায় সেখানেই একটি বাড়ি করেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়দের উদ্যোগ দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন মোসলেম। অবশেষে ঠাঁই না পেয়ে মনের দুঃখে দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে গত রমজানে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই খাসজমির ওপর উত্তর-পূর্বদিকে কয়েকটি কক্ষের একটি এল আকৃতির টিনসেড বিল্ডিং করেছেন জয়নাল আবেদীন। দুই ছেলে চাকুরি করায় এখন স্ত্রীসহ বাড়িতে থাকেন তিনি। করেন পাশের হাইস্কুলে চাকুরি।
স্থানীয়রা বলছেন, এই পাড়ার মধ্যে এখন সবচেয়ে ধনবান তিনি। পরিবারের মধ্যে কেবল চাকুরি করেন না জয়নালের স্ত্রী। কিন্তু তবুও কেন যে সরকারি জমিতে বাড়ি করেছেন জয়নাল তা বোধগম্য নয় তাদের।
আব্দুল মতিন নামের ওই প্রবীণ ব্যক্তি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা গৃহহীন মোসলেমের জন্য একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই-এর জন্য গোপাল, নৃপেন্দ্র, শাহাবর আলী ও রঞ্জু মাস্টার এবং আশেক মেম্বারসহ চেয়ারম্যান ও তহশিলদারের কাছে গিয়েছিলাম। তহশিলদারও এসেছিলেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে সব ডুব মারলো তা জানি না।
খাসজমিতে পাকাবাড়ি করার কথা জানতে চাইলে জয়নাল আবেদীন বলেন, আমি ২৭ শতক জমি কিনেছি। তারমধ্যে ৮ শতক জমি খাস ছিল তা জানা ছিল না। বাড়ি করাটা ভুল হয়েছে। এর  সমাধান কী তাও জানতে চাইছিলেন তিনি।
এবিষয়ে তারাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মো. আবু বকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ও তারাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আশেক আলী জানান, জয়নালের বাড়িটি খাসজমিতে। সেখানে ৮ শতক জমি আছে। এর বাইরে আর কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।