শুক্রবার , ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১০ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মরে যাচ্ছে ভৈরব নদ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার, হুমকির মুখে লাখো মানুষের জীবন 

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়া বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই শঙ্কার মূল-কারণ হলো ভৈরব নদ। নদের তলদেশে ক্রমে ক্রমে পলি জমে ভরাট হয়ে আসছে। দুই তীরেই চর জাগতে শুরু করেছে। অপরিকল্পিত ব্রীজ নির্মাণ ও ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা অবৈধভাবে দখল হওয়ায় এ ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য মূল দায়ী বলে সচেতন মহল ও নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন। এছাড়া অব্যাহত দখল ও দূষণ অপরিকল্পিত ড্রেজিং অপরিকল্পিত ঘাট নির্মাণের কারণে থমকে যাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক স্রোত ধারা

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অচিরেই পায়ে হেঁটে পার হওয়া যাবে নাওয়াপাড়ার এই ভৈরব নদের উপর দিয়ে,তেমনটি ঘটলে অকার্যকর হয়ে পড়বে নওয়াপাড়া নদীবন্দর। বেকার হয়ে পড়বে হাজার হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিকসহ লাখো মানুষ। পথে বসবে শতশত ব্যবসায়ী। কেবল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নয়,পরোক্ষভাবে নদীবন্দরের সঙ্গে যুক্ত মোটর শ্রমিক ও ব্রোকার্স ইউনিয়নের শ্রমিকেরাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেই সাথে নদী বন্দর অচল হলে সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

এসব আশঙ্কা থেকে ভৈরব নদ বাঁচাতে কার্যকর ভূূমিকা গ্রহণের দাবি উঠেছে। যদিও বছরের পর বছর ধরে এ দাবীতে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম চললেও অজ্ঞাত কারণে তা মাঝপথে গিয়ে থেমে যায়। পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেও অদ্যোবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশ হয়ে পড়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নওয়াপাড়া নদীবন্দরের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় অর্ধকিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই-তৃতীয়ংশে চর জমে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়াও নদীবন্দরের নওয়াপাড়া জুট মিল সংলগ্ন এলাকা, বেঙ্গল খেয়াঘাট থেকে নওয়াপাড়া গ্লোবঘাট, তালতলা ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অধিক পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদীতে ছোট বড় কার্গো- জাহাজ চলাচলে চরম বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। বিআই, ডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, গত ২০২১ সালের ২৪ জুলাই থেকে বিআই, ডব্লিউটিএ প্রকৌশল (সংস্কার) বিভাগের আওতায়

ভৈরব নদ সংস্কার তথা ড্রেজিং শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ এই ড্রেজিংয়ে বন্দরের তেমন কোনো উপকার হয়নি। নওয়াপাড়া হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন মন্ডল বলেন, ভৈরব নদ ঘিরে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও ব্রোকার্স ইউনিয়নের ৪০ হাজারের অধিক শ্রমিক ও তাদের পরিবার প্রত্যক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাছাড়া রয়েছে নদ নির্ভর শতশত ব্যবসায়ী ও তাদের পরিরার কিন্তু বিআই, ডব্লিউটিএ(BIWTA) বন্দরের ক্ষেত্রে বরাবরই চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যদিও বিআই, ডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে, অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণের কারণে বেহাল দশায় পড়েছে ভৈরব নদ। তাছাড়া বন্দর এলাকায় ড্রেজিং করে মাটি বালু ফেলার জায়গা সংকটে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকহারে চর জাগলেও মাটি বালু ফেলার জায়গা না পাওয়ায় ড্রেজিং সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া গ্রুপের সেলস্ অ্যান্ড মার্কেটিং হেড মিজানুর রহমান জনি বলেন, নদীর তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে আসছে। দু’তীরেই চর জাগতে শুরু করেছে। শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগরীর স্পন্দন ভৈরব নদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। খননটা যদি বন্দরের মতো করে উপযোগী করে তৈরি করা না হয়‌ তাহলে এ মোকামে ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে। নওয়াপাড়া সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল গণি সরদার বলেন, এই মোকামে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় অনেক জাহাজ আসে। নদে সার, গম, ভূট্টা, সিমেন্ট, ভূষিমাল ও কয়লা নিয়ে জাহাজ নোঙর করে। ড্রেজার আছে, কিন্তু তারা যে কী করেন তা সার ব্যবসায়ী সমিতির দৃষ্টিতে নেই। ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়ায় এই বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ভৈরব নদকে রক্ষার দাবী জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরীর নওয়াপাড়ার লাখ লাখ মানুষ ।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।