বৃহস্পতিবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৯ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

গোপালপুরে হাঁস পালনে মোস্তফার সাফল্য

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

পরিশ্রম মানুষের সৌভাগ্য ও উন্নতির একমাত্র উপায়, যথােপযুক্ত পরিশ্রম দ্বারাই মানুষ সৌভাগ্যের সূচনা করতে পারে। দীর্ঘ ৩০বছর হাঁস পালনে ব্যাপক সাফল্যে লাভ করেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের উত্তর বিলডগা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র মো. মোস্তফা (৫৫)। হাঁস পালন করে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় করেন তিনি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ৯০০হাঁস নিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাওয়া খালি মাঠে বসে আছেন তিনি, পরে থাকা ধান কুড়িয়ে খাচ্ছে হাঁসগুলো। সাংবাদিকদের  কাছে হাঁস পালনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় বর্ণনা করেন।

তিনি জানান, ৩০ বছর আগে ২২টি হাঁস পালনের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন পরে পর্যায়ক্রমে বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে ১১০০ হাঁস একসাথে পালন করতেন । এবছর ৯০০টি নর হাঁসের বাচ্চা ময়মনসিংহ থেকে ৪২টাকা টাকা দরে কিনে এনেছেন।
নর হাঁস সাড়ে তিন মাস থেকে ৪মাস পালন করলে বিক্রির উপযোগী হয় । প্রতিটি ৪৫০ থেকে ৫০০টাকা বিক্রি করা যায় । নলিন, পিংনা, ভেঙ্গুলা ও গোপালপুর হাট ছাড়াও বাড়ীতে পাইকারের কাছে বিক্রি করেন।লালন পালনের বিষয়ে তিনি জানান, ২২দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চা হাঁসকে ব্রয়লারের খাবার দিতে হয়। এরপর বর্ষায় পার্শ্ববর্তী ডগাবিলে একমাসের বেশি সময় শামুক কুড়িয়ে খায়, এসময় খাওয়ার কোন খরচ হয় না। এছাড়াও বর্ষাকালে হেলেঞ্চা বিলসহ বিভিন্ন বিলে হাঁসসহ চলে যান।
পরবর্তীতে প্রতিদিন খাবারের জন্য ২মন ধান দরকার হতো, এখন মাঠে ধান খুটে খাচ্ছে তাই এক মণ ধান দরকার হয়। বিগত ৩মাসে ২লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে হাঁসগুলোর জন্য। রোগ বালাই খুব একটা নেই, হঠাৎ ২/১টা মারা যায়। এপর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩টা  হাঁস একসাথে মারা গেছে খাওয়ানোর ব্যতিক্রমে।

বাড়িতে হাঁস পালনের জন্য আলাদা শেড বানিয়েছেন, যখন হাঁস শামুক খায় তখন বালুর উপর রাখেন, এমনিতে সাধারনভাবেই রাখা যায়। গরমের সময় ৪টি ফ্যান দিতে হয়, শীতে খুব একটা সমস্যা হয়না।মাদি হাঁস দীর্ঘ ১০মাস ধরে পালন করতে হয়, দু’বছর আগে নিয়মিত মাদি হাঁস পালন করতেন । তখন দৈনিক অন্তত ৮০০ডিম বিক্রি করতেন।  এখন তার শারীরিক সমস্যার কারণে আগের মতো শ্রম দিতে পারেন না, তাই নর হাঁস পালন করেন।

মাদি হাঁস দীর্ঘদিন পালন করতে হয়, তাই ভ্যাকসিন দিতে হয়। নর হাঁস অল্প সময় পালন করায় ভ্যাকসিন দরকার হয় না। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে চাহিদামতো ভ্যাকসিন পাওয়া যায় বলে জানান।

রোগবালাই কম হবার সিক্রেট কি জানতে চাইলে বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাই এর একমাত্র কারণ।হাঁসের খামারের আয় দিয়েই তার সংসার চলে, ব্যাংকে টাকা জমান। তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে।লালন পালনের সকল কাজ তিনি একাই করেন, এবছর প্রতিবেশী আতিকুর রহমানকে সাথে রেখে হাঁস পালন শেখাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়নাল খাঁন বলেন, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরেই হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বেকার যুবকদের উচিৎ ওর মতো খামার করা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ আব্দুল বাসেত বলেন, তিনি আমাদের নিবন্ধিত খামারি, প্রয়োজনানুযায়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ডার্ক প্লেগ ও ডার্ক কলেরা ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয় এবং নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।