মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোটেল মুন আবাসিকে অটোরিক্সার লোভে জনৈক এক ব্যাক্তিকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ৪ ডিসেম্বর সোমবার ১৯.৪৫ ঘটিকার সময় শ্রীমঙ্গল থানাধীন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় হোটেল মুন আবাসিক এর ৩য় তলায় ২০৩ নং কক্ষে একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষ ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মোঃ সুজন মিয়া (৪৫) হোটেলে একটি রুম ভাড়া নেয়। সে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া (সোনাপুর) এলাকার মৃত আবরক মিয়ার পুত্র।
তদন্তকালে হোটেলের রেজিষ্টারপত্র পর্যালোচনা ও ঘটনার বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে গত ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার মোঃ সুজন মিয়া (৪৫) হোটেলের ৩য় তলার ২০২ নং কক্ষ ভাড়া নেয় এবং উক্ত কক্ষে অবস্থান করতে থাকে। পরবর্তীতে গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২৩.৫০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ সুজন মিয়া অজ্ঞাতনামা একজন লোককে নিয়ে উক্ত হোটেলের ৩য় তলায় ২০২ নাম্বার কক্ষে প্রবেশ করে। তারপর আসামী সুজন মিয়ার সাথে অজ্ঞাতনামা আরো দুই-একজন ব্যক্তিকে উক্ত হোটেলের ৩য় তলার ২০২ নাম্বার কক্ষে আসা যাওয়া করতে থাকে। পরবর্তীতে গত ১ ডিসেম্বর শুক্রবার আনুমানিক সকাল ৮ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ সুজন মিয়া হোটেল হইতে বাহির হইয়া যাওয়ার সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ আসামীকে রাতের বেলা হোটেলে উঠা লোকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে জবাব দেয় উক্ত ব্যক্তি আগেই হোটেল হইতে বাহির হইয়া চলে গেছে। পরবর্তীতে গত ০৪ ডিসেম্বর সোমবার উক্ত হোটেলের ৩য় তলার ২০৩ নাম্বার কক্ষটি হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রুজিনা আক্তার পরিষ্কার করার জন্য কক্ষে প্রবেশ করিয়া পঁচা দুর্গন্ধ পায় এবং খাটের নিচে দেখতে পায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে।
ঘটনার পর হইতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, শ্রীমঙ্গল সার্কেল ও অফিসার ইনচার্জ শ্রীমঙ্গল থানা’র সার্বিক দিক নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) তাপস চন্দ্র রায়সহ সঙ্গীয় অন্যান্য অফিসার ফোর্সের সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত থাকা আসামী মোঃ সুজন মিয়া (৪৫) কে গত ০৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২১.১০ ঘটিকার সময় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড হইতে গ্রেফতার করে।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভিকটিমের নাম ইন্তাজ মীর (৫২), পিতা-মৃত ইনু মীর, সাং-কালেঙ্গা, থানা-কমলগঞ্জ, জেলা-মৌলভীবাজার বলে জানায়। আসামীকে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামীর দেখানো মতে শ্রীমঙ্গল থানাধীন ০৬নং আশিদ্রোন ইউপির অন্তর্গত সিন্দুরখান রোডস্থ রামনগর সাকিনস্থ কাকিয়ার পুলের নিকট সবুজ মিয়ার ভাড়াটিয়া গাড়ী চার্জিং এর গ্যারেজ হইতে ভিকটিমের ব্যবহৃত ব্যাটারি চালিত একটি অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আসামীর দেহ তল্লাশী করে ভিকটিমের ব্যবহৃত ০১টি কালো রংয়ের ওয়ালটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে- আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সাটি নিজ হেফাজতে নিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে হত্যা করে।