খাগড়াছড়ি রামগড় ভূমি অধিগ্রহণের নজিরবিহীন জালিয়াতি নিয়ে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী রামগড় ভূমি রক্ষা কমিটি। আজ সোমবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব হলরুমে রামগড় ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু নির্মাণ পরবর্তী স্থলবন্দরের জন্য সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ৭০০কোটি টাকা আত্মসাতের লক্ষে ভুয়া দলিল বানানোর সাথে জড়িত ভূমি দস্যুদের শাস্তি ও ভুয়া দলিল বাতিলের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১-এর নির্মাণ-পরবর্তী সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ‘বারৈয়ারহাট-হেয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ শীর্ষক প্রকল্প’-এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত ভূমিদস্যু ,তাদের আশ্রয়দাতা প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মচারী। এই চক্র জাল দলিলের মাধ্যমে অপদখল করে ভূমি অফিসের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূমি দস্যুরা কয়েকশত মানুষের ভূমির জাল দলিলপত্র,হোল্ডিং, খতিয়ান, দাগ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে সরকারের অধিগ্রহনের টাকা আত্মসাতের পায়তারা করে।ভূমি দস্যুদের এ পায়তারা থেকে এলাকার মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও বাদ যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, শত বছর থেকে বংশানুক্রমে বিরোধমুক্তভাবে বাড়ীঘর দোকাটপাট তৈরী করে ভোগ দখল করার সম্পত্তি সাবেক জেলা কানুগো দেলোয়ার,সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম ও মৌজা প্রধান মংশেপ্রু চৌধুরীর সহায়তায় ভুমি দস্যু মোস্তফা-নবী গং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অধিগ্রহনের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছে।তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।যারা সরাসরি ভূমির প্রকৃত মালিকদের নানাভাবে হয়রানী করছে। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমির মালিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত মে মাসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুনানীতে ভূমি দস্যুদের দলিল ভূয়া প্রমাণিত হয়। কিন্তু ৩ মাসের বেশী সময় অতিবাহিত হলেও ভুয়া দলিল বাতিল কিংবা কোন আদেশ দেয়া হয়নি।স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে রামগড় ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি শের আলী ভূইয়া, রামগড় পৌরসভার কাউন্সিলর মো. কাশেম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ভূমির মালিক মুজিবুর রহমান,সায়মন হালদার,দেলোয়ার হোসেন, প্রফেসর ফারুক উর রহমান বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বক্তারা যেন, রামগড়ের ভূমি অধিগ্রহণের জালিয়াতির ঘটনাটা সবার কাছে পৌঁছাতে পারে দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মঙ্গলবার , ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
রামগড়ে নজিরবিহীন ভূমি জালিয়াতি,প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন
প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩