সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মন্টু গাজীকে বাঘে ধরে নিহত হওয়া ঘটনা ভিন্ন ক্ষাতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্হানীয় সংবাদকর্মী ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়,স্থানীয় বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট ষ্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে একদল মহাল সুন্দরবনে মধু কাটতে যায়। পরবর্তীতে মধুর সংগ্রহ শেষে সবাই ফিরে এলেও মন্টু গাজী ফিরে না আসায় ১১ জনের নামে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের মধু কাটতে যাওয়া অন্য মোয়ালরা জানান, আমরা মধু কাটতে যেয়ে ভারতীয় অংশে ঢুকে পডলে ভারতীয় বন রক্ষী বাহিনী আমাদের মারধর করে নৌকা কেড়ে নিয়ে যায়। পরে আমরা ভেলায় করে নদী পার হয়ে ভারতীয় অংশ হতে বাংলাদেশ তালপট্টি নামক স্থানে আসি। হাঁটতে থাকি, হাঁটতে-হাঁটতে সবাই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ১৯ শো এপ্রিল দুপুরের দিকে মন্টু গাজী বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে একটি গাছের গোড়ায় বসিয়ে রেখে পাশের নদীতে নৌকা খুজতে যান। ফিরে এসে সেই গাছের গোড়ায় মন্টুকে দেখতে পাইনি। তখন এদিক ওদিক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া না গেলে ধারণা করা হয় একা পেয়ে বাঘ এসে মন্টু গাজীকে নিয়ে গেছে। সেখানে বাঘের পায়ের একাধিক ছাপও ছিল। তারা মন্টুকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি। পরে বনবিভাগের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সুন্দরবনের কলাগাছি এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়। শনিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তারা গাবুরা এসে পৌঁছান। তখন ফরেস্ট স্টেশন বলেছিল, মন্টুকে বাঘে ধরে নিয়ে গেছে নাকি ভারতীয় অংশে গিয়ে তিনি হারিয়ে গেছেন, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মন্টুকে বাঘে নিয়ে গেছে বলে বনবিভাগকে তার সহকর্মী মৌয়ালরা জানিয়েছে।’
অর্থাৎ মিডিয়ায় ২২ এপ্রিল প্রচারিত হলো- মন্টু গাজীকে বাঘে নিয়ে গেছে। এর মধ্যদিয়ে মন্টু গাজী যে বনবিভাগ থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়েছিলেন, সেটি স্পষ্ট। তাকে বাঘে নিয়ে গেছে, না তিনি ভারতীয় অংশে হারিয়ে গেছেন, সেটা পরের কথা। তিনি যে সুন্দরবনে গিয়ে আর ফেরেননি এটাই চূড়ান্ত সত্য। তখন ২২ এপ্রিল যদি মন্টু গাজীর সংবাদটি গুরুত্বের সাথে বাংলাদেশের সব মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। অন্যদিকে তাহলে তিনি ২৪ এপ্রিল অপহরণের শিকার দেখিয়ে মামলা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নিখোঁজ মো. মন্টু গাজীর স্ত্রী সফিরণ বেগম জানান, ‘আমাকে বলল আমি মহালে (সুন্দরবনে মধু আহরণকে স্থানীয় ভাষায় মহাল বলে) যাব। কিন্তু টাকা তো নেই। তুই টাকা নিয়ে আয়। তখন আমি মাঝির (মহাজন) কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আসলাম। ওই টাকা বাড়ি রেখে এপ্রিলের ১ তারিখে তারা মহালে গেল। বেশ কয়েকদিন পর একবার মোবাইলে নেটওয়ার্ক পেলে আমাকে ফোন করেছিল। বলল, নৌকা খোয়া গেছে। কয়েকদিন কিছু খায় না। অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে ওনার সাথে যারা গিয়েছিল, তারা ২২ এপ্রিল বাড়ি ফিরে বলল, নৌকা খোয়া যাওয়ার পর সবাই না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মন্টু গাজী অসুস্থ অবস্থায় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এক জায়গায় বসেছিল। তখন তাকে বাঘে নিয়ে যায়। কিন্তু মরদেহ পাওয়া যায়নি।
মন্টু গাজী সুন্দরবনে গিয়েছিলেন মধু আহরণ করতে সকলে ফিরে এলেও মন্টু গাজী ফিরে না আসায় শ্যামনগর থানায় আমি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। পরবর্তীতে মামলা দেওয়া চাপ দেয় একটি পক্ষ। তিনি আরো বলেন আমি মামলা না করাই আমার বিমাতা দেবর আবুল হাসান আমাকে খুব চাপ দেয়। আমি মামলা না করাই সে নিজে বাদী হয়ে সাতক্ষীরা কোর্টে মামলা করে।
অন্যদিকে একই তথ্য বলছে স্হানীয় ফরেস্ট ষ্টেশনে (বনবিভাগ)।বনবিভাগের পাশের স্লিপে ৯নং সিরিয়ালে রয়েছে মন্টু গাজীর নামও আছে।
একইভাবে বাংলাদেশের প্রভাবশালী পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন মিডিয়াগুলো ২২ এপ্রিল মন্টু গাজীকে বাঘে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত একটি খবর গুরুত্বের সাথে প্রকাশ/প্রচার করেছে।
মিডিয়াগুলোর ভাষ্য অনেকটা একই রকম সেখানে মন্টু গাজীর সহকর্মী মৌয়ালদের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১ এপ্রিল তারা বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে মধু আহরণের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে ঢোকেন।
বন বিভাগের সদস্যদের মাধ্যমে শনিবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তারা গাবুরা এসে পৌঁছান। তখন ফরেস্ট স্টেশন বলেছিল, মন্টুকে বাঘে ধরে নিয়ে গেছে নাকি ভারতীয় অংশে গিয়ে তিনি হারিয়ে গেছেন, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মন্টুকে বাঘে নিয়ে গেছে বলে বনবিভাগকে তার সহকর্মী মৌয়ালরা জানিয়েছে।
মিডিয়ায় ২২ এপ্রিল প্রচারিত হলো- মন্টু গাজীকে বাঘে নিয়ে গেছে। এর মধ্যদিয়ে মন্টু গাজী যে বনবিভাগ থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়েছিলেন, সেটি স্পষ্ট। তাকে বাঘে নিয়ে গেছে, না তিনি ভারতীয় অংশে হারিয়ে গেছেন, সেটা পরের কথা। তিনি যে সুন্দরবনে গিয়ে আর ফেরেননি এটাই চূড়ান্ত সত্য। এখন ২২ এপ্রিল যদি মন্টু গাজীর সংবাদটি গুরুত্বের সাথে বাংলাদেশের সব মিডিয়ায় প্রচারিত হয়, তাহলে তিনি ২৪ এপ্রিল অপহরণের শিকার হলেন কিভাবে? প্রশ্ন এটাই। নানবিধ প্রশ্ন ও পরিকল্পিত মামলায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সহ ১১ জনের নামে যে মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে তা পরিকল্পিতভাবে বিমাতা ভাই আবুণ হাসান কে দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে করা হয়েছে তা মিথ্যা বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্টু গাজীকে অপহরণের অপহরণের মামলায় ইতোমধ্যে সাংবাদিক মিজানুর রহমানসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক মিজানের মুক্তি দাবি ও মামলার যারা পরিকল্পনাকারী তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।