লামার পার্শ্ববর্তী চকরিয়ার বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন এর মাইজপাড়া ২নং (ওয়ার্ড) এর সরকারি খাস পুকুরটি কথিত নিলাম সিন্ডিকেট মাধ্যমে লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ জুন) কতিপয় এলাকার লোক মিলে মাদ্রাসাকে নাম ভাঙ্গিয়ে গোপনে তিন বছরের জন্য প্রায় এক (১) একর আয়তন পুকুরটি সিস্টেমে ভাগবাটোয়ারা করেছে বলে জানা যায়। আরও এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত কয়েক বছর ধরে অসাধু চক্রটি পুকুর থাকা মাছগুলো ধরে মণ মণ বিক্রি ও খেয়ে ফেলার অভিযোগ করেছে এই সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিবছর।
এদিকে বিলছড়ি দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই পুকুরটি অনেক আগে ডিসি অফিস থেকে লিজ নিয়েছিলাম। এবারে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে নিলাম দিয়েছি এলাকার মনজুর উদ্দীন গং দেরকে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়েছে। সেখানে আমাদের জন্য একভাগ রেখেছে।
কোন নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি,মিটিং করেছি।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) কক্সবাজার অফিসের লিজ কপি দিতে বললে দিতে পারেনি।
এদিকে অভিযুক্ত মোঃ মনছুর উদদীন হতে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমাদেরকে কোন ডকুমেন্ট দেয়নি। মাদ্রাসার কমিটির কয়েকজন মিলে শুধু মাত্র দেখাশুনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,এই বড় পুকুরটি সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রকাশ্য নিলাম দিলে যে কেউ ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে লিজ নিবে।
তারা আরও জানান, আমরা ছোটকালে প্রাকৃতিক জলাশয়টিতে উৎসব করে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতাম। গত কয়েক বছর ধরে একটি চক্র এর দখল করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ শফিকুর রহমান জানান, পুকুর লোপাট বিষয়ে কারা জড়িত সঠিকভাবে তদন্ত করে লিখেন, আর এগুলো নিয়ে এত বছর কেউ বলেনি কেন? এখন বলছে কেন?
সেক্ষেত্রে “প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন- ২০০০’ অনুযায়ী দেশের সব এলাকার কোন প্রাকৃতিক জলধার,মাঠের পরিবর্তন, হস্তান্তর বা ভাড়ায় ব্যবহার দন্ডনীয় অপরাধ। সেখানে পুকুর বা জলধার এভাবে অনিয়ম, সিন্ডিকেট করে ভাগবাটোয়া করা আইন আনুযায়ি দন্ডনীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে চকরিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাহাত উজ জামান জানান, আমি এ বিষয়ে জানিনা। প্রথম শুনলাম মাত্র। তবে এক্ষেত্রে খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।