শনিবার , ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জনমত উপেক্ষা করে জনতা ব্যাংক মীরগঞ্জ বাজার শাখা স্থানান্তরের চেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩
শত শত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকের ন্যায়সঙ্গত দাবি এবং জনমত উপেক্ষা করে জনতা ব্যাংক মীরগঞ্জ বাজার শাখা, গাইবান্ধা নাম হলেও ওই বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরে সুন্দরগঞ্জ নামক স্থানে তা স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্যাংকের গ্রাহক এবং স্থানীয়রা। আর শাখাটি স্থানান্তরিত হলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে ব্যাংকের শত শত সেবা প্রত্যাশী এবং বাড়বে যাতায়াত ব্যয় ও নষ্ট হবে সময়।
জানা গেছে, উপজেলার ঐতিহাসিকভাবেই প্রসিদ্ধ মীরগঞ্জ হাট। প্রতি বুধ ও শনিবার হাট বসলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতেও বসে বাজার। পৌর শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরখ্যাত এ বাজারটিতে অতীত থেকেই রয়েছে বড় রড় রড, সিমেন্ট,  ঢেউটিন, হার্ডওয়ার, সিরামিক্স, কাপড় ,সার, কীটনাশক, ওষুধ ও মনোহারি পণ্যের ডিলার এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। সেজন্য প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগমও ঘটে বাজারটিতে। পৌর শহরের সুন্দরগঞ্জ বাজার এলাকায় কয়েকটি ব্যাংক থাকলেও শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বাজারটিতে গ্রামীণ ব্যাংকসহ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ছাড়া ব্যবসায়ীদের দৈনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করার মতো ছিল না কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক।
একদিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রটিতে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রয়োজনয়িতা অনুভব, অন্যদিকে মীরগঞ্জ বাজার হতে ১৫ কিলোমিটার দূরের জনতা ব্যাংক, শোভাগঞ্জ শাখাটি ক্রমাগতভাবে করে আসছিল লোকসান। এ অবস্থায় ব্যাংকটিকে লাভে নিয়ে যাওয়া এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করেই ২০০২ সালের দিকে জনতা ব্যাংক মীরগঞ্জ বাজার শাখা নাম ধারণপূর্বক পৌর শহরের মীরগঞ্জ বাজারে স্থানান্তর করে শুরু করে তার ব্যাংকিং কার্যক্রম। বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানি, ব্র্যাক, আশা, এসকেএস, ইএসডিও, টিএমএসএস সহ বিভিন্ন এনজিও, কাঁচামাল রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা লেনদেনও করেন কোটি কোটি টাকা। সূত্র বলছে, বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে লাভও করে আসছে ব্যাংকটি। গত ২০২২ সালে লাভ করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। কিন্তু শুধুমাত্র ব্যাংকে ওঠার (২য় তলা) সিঁড়িটি একটু উঁচু হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেন সুন্দরগঞ্জ নামক ভিন্ন একটি স্থানে তা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।
জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা ব্যাংকটি যাতে বাসা পরিবর্তন করে হলেও সুন্দরগঞ্জে স্থানান্তর না করে মীরগঞ্জ বাজারেই থাকে সেজন্য নতুন ভবনও করে দিতে চেয়েছিলেন ননী গোপাল সরকার নিমাই নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন ব্যাংকে ওঠানামা সিঁড়ির সমস্যার কথা বলেছিলেন। আমি ভবন করে দিতে চেয়েছি। আমানতের কথা বলেছিলেন। তাই অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কোটি টাকার ওপর আমানতও জমা দিয়েছি। আমাদের ব্যবসায়ীদের দাবি- বাসা পরিবর্তন করুক সমস্যা নেই। কিন্তু ব্যাংকটি যেন মীরগঞ্জ বাজার থেকে সুন্দরগঞ্জে স্থানান্তর করা না হয়। কারণ সুন্দরগঞ্জে গেলে তা হাজার হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি বাড়াবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবেন গ্রাহকরা।’
এদিকে, গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যাংকটি যাতে মীরগঞ্জ বাজার থেকে স্থানান্তর করে সুন্দরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া না হয় সেজন্য স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া-র নির্বাহী পরিচালক বরাবর একটি চিঠিও দিয়েছেন।
ব্যাংক শাখা স্থানান্তরের গুঞ্জনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাখা ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি তিনি।
এরিয়া অফিস, গাইবান্ধার এজিএম মো.সানাউল হকের সাথে কথা হলে তিনি গাড়িতে রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে আবার ফোন দিলে তিনি তা রিসিভ করেন নি।
স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলছেন, ‘অনেক আগে আমি একটি চিঠি দিয়েছিলাম। এটি তো আসলে ব্যাংকের ব্যাপার। তারপরেও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।