আজ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পিটিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পা ভেঙ্গে দিল গ্রাম পুলিশ

লামা প্রতিনিধি: লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে পিটিয়ে আব্দুর শুক্কুর নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বাম পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল,২০২০ ইং) বিকালে বর্ণিত ইউনিয়নে (৩ নংওয়ার্ডস্থ) কমিউনিটি সেন্টার বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় ক্ষুদ্র আকারে ছাগলসহ অন্যান্য ছোট্ট খাট ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে দিনাদিপাত করে আসিতেছিল। ঘটনারদিন আমার গ্রামের পাশ্ববর্তী বর্ণিত কমিউনিটি সেন্টার বাজারে জরুরী প্রয়াজনে ঘর থেকে বের হই। সেখানে একই এলাকার বাসিন্দা মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র গ্রাম পুলিশ মোঃ রুবেল লকডাউনের অজুহাত দিয়ে কোন কিছু বুঝে উঠার আগে প্রকাশ্যে বাজারে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে স্বশোরে আমার বাম পায়ে আঘাত করলে আমি মাটিতে লুটিয়া পড়ি।

সে সময় থেকে প্রচন্ড ব্যথা শরীরে অনুভূত হলে গ্রামের পল্লী ডাক্টারের কাছে ব্যাথার ইনজেশনসহ ওষধপথ্য সেবন করে ভাল না হওয়ায় গত সাপ্তাহ খানেক পূর্বে মেডিকেলে এক্স-রে টেষ্ট করলে বাম পায়ের হাঁটুর নিচে হাট ভাঙ্গা ধরা পড়ে। সেক্ষেত্রে এখন দিনদিন শরীরের অবস্থা খারাপে দিকে যাচ্ছে দরুন আমি ঠিকমত চলাফেরা দূরের কথা ঠিকমত উটাবসা করতে পারতেছিনা। এক্ষেত্রে আমার আরও উন্নত চিকিৎসা করা দরকার। তা আমার মত দরিদ্র্য লোকের পক্ষে সম্ভব নয়। তা না হলে আমাকে চিরজীবনের জন্য হয়তো পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে।

এ ব্যাপারে আমি সুবিচার পাওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আবেদন করলেও কোন সুরাহা না পাওয়া আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মানুষে ধারে ধারে মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছি। বর্তমানে আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যা পুঁজি ছিল তা চিকিৎসা ব্যয়ে সর্বশান্ত হয়ে অসহায়হয়ে পড়েছি। এদিকে পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এই পঙ্গু পা নিয়ে আমার স্ত্রী,ছোট ছোট ছেলে -মেয়ে অনাহারে -অর্ধাহারে দিনাদিপাত করছি। এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজপ্রতি (সর্দার) মোঃ খোরশেদ আলম জানান, আহত ব্যক্তিটি খুবই অসহায়, তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে বাজারে প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আঘাত করে পা ভেঙ্গে দেন উক্ত চৌকিদার। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মামুন জানান, লকডাউন চালাকালীন সময়ে উক্ত ব্যক্তি বাজারে বের হওয়ার কারনে চৌকিদারের সাথে কথাকাটির জেরে লাঠি দিয়ে একটি বাডি দিয়েছিল।

সে কারণে আমরা চেয়ারম্যানসহ রুবেল চৌকিদারকে বকা দিয়েছিলাম। এর পরে কি হয়েছিল? তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে স্থানীয় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাকের হোসেন মজুমদারকে মোটো ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর