পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং কয়েকদিনের তাপদাহে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে মিলছে না পর্যাপ্ত পানি। সুপেয় পানিসহ দৈনন্দিন কাজে পানির সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে। ফলে পানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে ৪টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার।
উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম ইউনিয়নের কিছু কিছু অংশে টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। আর কিছু টিউবওয়েলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম পানি উঠছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পুরো এলাকাজুড়ে টিউবওয়েল থেকে পানি না উঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে পানি না ওঠায় মাঠের বিভিন্ন ফসল ধান, ভুট্টা, শসা,পাট, লিচু, করলা, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ অন্যান্য ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অনেক কৃষক। ফলে তাদের সুপেয় পানির জন্য গভীর নলক‚প বা সাব মার্সিবল পানির পাম্পের উপর ভরসা করতে হচ্ছে।
সরকারিভাবে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ২৬টি সাবমারসিবল পানির পাম্প রয়েছে। এছাড়া পানির সংকট কাটাতে কেউ কেউ বাড়িতে গভীর নলকুপ বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করছে।
পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চাপাপাড়া গ্রামের মোঃ রশিদুল ইসলাম জানান, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকার বেশ কিছু টিউবওয়েলে পানির উঠছে না। যেসব টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে তা পরিমানে খুব কম।
একই কথা জানিয়ে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন রায় বলেন, শুস্ক মৌসুমে পুরো ইউনিয়নে পানির স্তর নীচে নেমে যায়। ফলে শুরু পানির সংকট। বর্তমানে প্রচন্ড তাপদাহের পাশাপাশি পানির সংকটে এলাকার মানুষ কঠিন সময় পার করছে। খাবার এবং রান্নার জন্য অনেকদুর থেকে ডিপ টিউবওয়েল হতে পানি আনতে হয়। কয়েক বছর ধরে এই সংকট চলছে এই এলাকায়। তাই দ্রুত পানি সংকটের সমাধান চাই।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দেব শর্মা বলেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রায় ৩২ হাজার মানুষের বসবাস। এ ইউনিয়নে ২০০৫ সাল থেকে পানির সমস্যা দেখা দেয়। নদী-নালা, পুকুরগুলোতেও পানি শুকিয়ে যায়। কোথাও আগুন লাগলে আগুন নেভানোর জন্য ধুলা মাটি ছাড়া পানি থাকে না। তবে বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাসে প্রচুর বৃষ্টি হলে তখন একটু টিউবওয়েল দিয়ে পানি বের হয়। সেগুলো থেকে পানি নিয়ে কোন মতে পানির চাহিদা পূরণ করছে এলাকাবাসী । আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, পানির জন্য আমাদের ইউনিয়নে আধুনিক প্রকল্প চালু করা হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমাযুন কবির বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী ও শতগ্রাম ইউনিয়নের কিছু অংশে পানির সমস্যা হচ্ছে। তবে মোহাম্মদপুর পুরো ইউনিয়নজুড়ে পানির সমস্যা রয়েছে। এর আগেও পানির সমস্যা ছিল তবে ২০১৮ সালের পর থেকে প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেখা গেছে সাধারণ টিউবওয়েলগুলো থেকে পানি বের হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বেশ কিছু তারাপাম্প নলকুপ দেওয়া হয়েছে সেগুলো থেকে পানি পাচ্ছে। এর বাইরে কোনো টিউবওয়েল থেকে পানি পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, পানির স্তর ৪৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। এ কারণে বাসা বাড়ির সাধারণ টিউবওয়েল থেকে পানি বের হচ্ছে না। এজন্য আমরা ২০১৮ সালের পর থেকে ২০০টি তারাপাম্প নলকুপ স্থাপন করেছি। ২৬টি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করেছি। এ ছাড়া কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। যা থেকে ৪কিলোমিটার এলাকার মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা ভোগ করবে।
এ দিকে ভূক্তভোগী পরিবার গুলো পানি সংকটে স্থায় সমাধানে জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।