শনিবার , ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে কৃষি অফিস কর্তৃক প্রদত্ত ধানের বীজ ভেজালের অভিযোগ, কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
যশোরের অভয়নগরে কৃষি অফিস কর্তৃক প্রদত্ত ধানের বীজ ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে হতাশার মধ্যে রয়েছে উপজেলার কৃষকেরা। ক্ষতি পোষাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। এবিষয়ে গত রবিবার ৭ মে ১২ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঘুটিয়া  ইউনিয়নের ৮ নং ওর্য়াডের মধ্যপুর গ্রামের কৃষকদের মাঝে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অফিস কর্তৃক প্রদত্ত ধানের বীজ ও সার প্রদান করা হয়। উক্ত বীজ পুরাতন ও তিন ধরণের ভেজাল মিশ্রিত ধান। যে ধানে কৃষকেরা চারা রোপনের পর যথাযথ পরির্চযা করেন। পরে উক্ত ধান থেকে ধানের মুকুল বের হওয়ার সময় প্রথম ধাপে ধান পেকে গেছে। আবার দ্বিতীয় ধাপের ধান কিছু বের হয়েছে। এবং ৩য় ধাপের ধান গর্ভাস্থায় আছে। এই ধানের এ অবস্থা দেখে উপজেলার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পরে কৃষি মাঠ কর্মকর্তার সাথে কথা বললে এ ব্যাপারে কোন স্ব – উত্তর পাননি। এরপর কৃষককেরা মুঠোফোনে আবার কৃষি মাঠ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধান কেটে ফেলার কথা বলেন। ওই কৃষি মাঠ কর্মকর্তাকে তারা দেখেনি বলেও অভিযোগে উল্লেখ্য করেন। ওই ১২ জন কৃষক ধান না পেয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। যে কারণে তারা উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কৃষক গোলাম সরোয়ার বলেন, ৮৪শতকে বীজ বোনার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ভালো ফলন হওয়ার কথা। কিন্তু এত দিনেও তাঁর ক্ষেতে কোনো ফলন আসেনি। জমির ইজারা খরচ, শ্রমিকের মজুরি, খেত রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্তত ৬০ হাজার খরচ হয়েছে। ভেজাল বীজের কারণে এই টাকা তুলে আনার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। মধ্যপুর গ্রামের কৃষক মো. সামছুর মল্লিক জানান, সরবরাহ করা বীজ থেকে চারা করে ক্ষেতে লাগানোর কিছুদিন পরেই মিশ্রণ দেখতে পান। এখন ধান গাছগুলো থেকে ছড়া বের হওয়ার সময়। কিন্তু জমিতে ছোটবড় নানা জাতের ধান গাছ দেখা যাচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক জাহিদুল সরদার বলেন, ফলন বেশি হওয়ার আশায় মাঠের পর মাঠ কৃষি অফিস কৃর্তক প্রদত্ত ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়নি। ধার দেনা করে চাষ করে ক্ষতি হয়েছে ৩০ হাজার টাকা । ক্ষতি পোষাতে সরকারে কাছে  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি অফিস কর্তৃক ধান বীজ নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। ক্ষেতে লাগানো ধানগাছ কোনোটি ছোট, কোনোটি লম্বা আকার ধারণ করেছে।ওই সব গাছ থেকে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ছড়া বের হওয়া শুরু হবে। এ অবস্থায় কৃষকের চোখে জল ছলছল করছে। কৃষকরা ওই ধানের বীজ নিয়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফিল্ড সুপার ভাইজার সুবাংকর মিত্র বলেন, আমি ৫ টি গ্রামের ফিল্ড সুপার ভাইজার হিসাবে কাজ করি। মধ্যপুর গ্রামের কিছু কৃষকের অফিস কর্তৃক প্রদত্ত ধানের বীজ দেওয়া হয়। তাদের ধানের ভাল ফলন হয়নি। তবে তার আসপাশের অঞ্চলের ধানের ফলন ভাল হয়েছে। কৃষকেরা তাকে চিনেন না এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার অনেক দ্বায়িত্ব। গুটি কয়েকজন কৃষক অভিযোগ দিতে পারে। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ব্যাপারে ক্ষতি পুসিয়ে দেওয়া যায় কিনা । সে ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার পরির্দশণে আসছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরি আমি ্ওই অঞ্চলে আসছি। কৃষকদের সাথে কথা বলছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষকেরা অভিযোগ দেওয়ার পর আমি ও চেয়ারম্যান মহোদয় এক জায়গায় বসে পরার্মশ করে কৃষি অফিসারকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর বলেন, কৃষি অফিস কর্তৃক প্রদত্ত ধানের বীজ ভেজালের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দ্বায়ভার আমি ও নির্বাহী অফিসার নিব না। এ দ্বায়ভার নিতে হবে কৃষি অফিসকে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।