শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালী জাতীয় চেতনার উম্মেষ: আমু

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩, ৫:২১ অপরাহ্ণ

“ আজকে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ পালন করছি। আমরা পরাধীন থাকাবস্থায় এই দিনটি অনেক বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করেও পালন করা হয়েছে। রাজনৈতিভাবে আওয়ামীলীগই মূলত এই দিনটি সামনে তুলে আনতো সবসময়। এটি শুধু সংস্কৃতি তাই নয় এখানে কিছু অর্থনৈতিক ভিত্তিরও মূল কিছু ব্যাপার রয়েছে। পহেলা বৈশাখের আগে আমাদের চৈত্র সংক্রান্তী মেলা হয়। সেই মেলায় আমাদের গ্রামীণ সমস্ত কুটির শিল্পগুলো আসে এবং এই কুটির শিল্প মেলায় আনার জন্যে গ্রামে গ্রামে সারা বৎসর উৎসবমুখরভাবে কাজ করা হয় এবং তৈরি করা হয়। সেই দিক থেকেও একটি জাগরণ সৃষ্টি হয় এবং বাঙ্গালী জাতির গ্রাম ভিত্তিক একটি অর্থনীতি গড়ে ওঠে। আজকে আমরা বিভিন্ন সার্কাসে যে অনুষ্ঠানমালা দেখে থাকি তার বেশিরভাগই সেই চৈত্র সংক্রান্তী মেলা থেকে আমদানী অথবা সেখান থেকে সূচনা। মূলত ৯৬৩ হিজরী  ও ১৫৬৬ খ্রি: মোঘল স¤্রাট আকবরের সময় এই ফসলি সন হিসেবে শুরু হয় এবং সেই ফসলি সনটিই ক্রমান্বয়ে আমাদের দেশে হালখাতা হিসেবে জাগ্রীত হয়। যেহেতু হালখাতা ফসলের ও খাজনা আদায়ের দিনক্ষন মিলিয়ে এই পহেলা বৈশাখ এবং সেই হিসেবে তারা ফসলি সন শুরু করেছে। হাজার বছর ধরে শ্রেষ্ঠ কবিরা যেমন কবিগুরু, নজরুল, লালন শাহ ও হাসান রাজা থেকে শুরু করে তারা কিন্তু বাঙ্গালীর কৃষ্টি সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে অনেক গান কবিতা ও রচনা তৈরি করেছেন এবং প্রত্যেকটি গানের মধ্যেই আমাদের ঐতিহ্য মন্ডিত রয়েছে। পাকিস্তানী আমলে যখন উগ্র পাকিস্তানীবাদ আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতো তখনও কিন্তু এই দিনটি বাঙ্গালী সংস্কৃতি নিয়ে আসতো এবং এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি হতো এবং এই চেতনা সারা বছর বাঙ্গালী জাতির মধ্যে বিরাজমান থাকতো। বর্তমানে সরকার এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারী ছুটি হিসেবে পরিগণিত করেছে। তারপরও কিন্তু এর বিরুদ্ধচারীরা কোনদিনই ক্ষান্ত হয়নি। আমাদের দেশে রমনা বটমূলে সম্ভবত ২০০১ সালে বোমা বিস্ফোরিত হয় এবং ১৬ জনের মত নিহত হয় এরই ধারাবাহিকতায় যশোরে উদিচি শিল্পগোষ্টির অনুষ্ঠানে বোমা বর্ষিত হয়। এমনিভাবে ধারাবাহিকতায় এই সংস্কৃতির উপর ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিলো। এই অনুষ্ঠানের আগে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর ছিলো যাতে কোন এই ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপ সৃষ্টি হতে না পারে।এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু যে আন্দোলন শুরুর করেছিলেন তারই ধারাবাহিতকায় বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, চেতনার উম্মেষ ঘটিয়ে ৬ দফা ভিত্তিতে বায়ান্নোর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পহেলা বৈশাখ ইংরেজি নববর্ষে পহেলা জানুয়ারীর মত দিন নয় এটি জাতীয় চেতনার উম্মেষ। এই চেতনাটা শুধু ভাষা ও সংস্কৃতিক কৃষ্টি নয় পোষাক আশাক থেকে খাদ্য সংস্কৃতি। আমরা সারা বছর যা-ই খাই না কেন পোলাও কোর্মা এই দিনটি আসার সাথে সাথে বাঙ্গালী সব কিছু ভুলে গিয়ে পান্তা চিরামুড়ি, দই, কলা দিকে ঝুঁকে পড়ে। আমি মনে করি এই দিনটি যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে।”

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শিশুপার্কের উম্মুক্ত মঞ্চে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৪৩০ বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু উপরের কথাগুলো বলেছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. খান সাইফুল্লাহ পনির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও রাজস্ব) লতিফা জান্নাতী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন নাহার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মো: আরিফুর রহমান, পৌর মেয়র আলহাজ্ব লিয়াকত আলী তালুকদার প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর