গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার জেরে রোকসানা বেগম হাসি নামে এক গৃহবধূর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী খোরশেদ আলম বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকায় নেওয়ার পথে বগুড়া ফুড ভিলেজের সামনে মারা যান ওই গৃহবধূ।
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের খামার ধুবনী গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা বলছেন, বছর কুড়ি আগে খোরশেদ আকন্দের সাথে রোকসানা বেগমের বিয়ে হয়। সংসার করাকালীন ৩৫ বছর বয়সী গৃহবধূ রোকসানা জানতে পারেন স্বামী খোরশেদ আলম অন্য নারীর প্রতি পরকীয়ায় আসক্ত। এনিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই একপর্যায়ে বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে খোরশেদ আলম মজুমদারহাটস্থ তার ফার্নিচারের দোকানে থাকা পেট্রোল দিয়ে রোকসানা বেগমের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় ওই গৃহবধূর চিৎকারে আশেপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে ওই গৃহবধূর শরীর আগুনে ঝলসে যায়। এমতাবস্থায় ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ্যাম্বুলেন্স যোগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বগুড়া ফুড ভিলেজের সামনে ওই গৃহবধূ মারা যান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম আজমিরুজ্জামান বলেন, ‘গৃহবধূর সন্তানরা আমাদের বলেছেন ওই নারী নিজেই তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়েছে। তবে নিহত গৃহবধূর পরিবারের দাবি তার স্বামী তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’