শুক্রবার , ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে কৃষি জমি লিজ নিয়ে সর্বশান্ত কৃষক: ১৫লাখ টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০২৩
অভয়নগরে কৃষি জমি লিজ নিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন এক কৃষক । ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ই মার্চে উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার দেবুরমিল এলাকায়। এ ঘটনায় ১২ই মার্চে মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গুয়াখোলা গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মাদ খাঁর ছেলে কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম(৫৩) তিনি বুইকারা মালেকের চাতালের পাশে বিবাদী মো. রহমাত আলীর (৫৫) কাছ থেকে ১০ বিঘা জমি (বছর প্রতি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে) ৫ বছর মেয়াদে লিজ নিয়ে ২ হাজার কলা গাছ, ৬শ পেয়ারা, ৬শ মালটা ১০ কাটা জায়গায় শসা, ১০কাটা জায়গায় লাউ, ১০ কাটা জায়গায় তরমুজ, ৫কাটা জায়গায় টমেটো, ১০ কাটা জায়গায় পইশাঁক, ১০ কাটা জায়গায় পেঁেপ, ৮শ লেবুগাছসহ অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ লাগান। শফিকুল বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ৬ লাখ  টাকা লোন তুলে দশবিঘা জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষাবাদ শুরু করেন। একবছর মেয়াদ শেষ হলে বিবাদী রহমত আলী শফিকুলকে ডেকে বছর প্রতি লিজের টাকা চান । এতে শফিকুল ইসলাম রহমতের কাছে সময় চাই। তিনি সময় না দিয়ে তার কর্মচারী মো. বাবুল ও তার বন্ধু মোস্ত নামের এক ব্যক্তি ওই জমিতে থাকা পানির মেশিন রুম ও গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিদ্যু সংযোগ বন্ধ করে দেন। এসময় শফিকুল জমিতে থাকা সবজি ও গাছপালা মরে যাওয়ার ভয়ে কিছু টাকা মানেজ করে রহমতে কাছে যান। ওই সময় রহমত তার কর্মচারীদের সাথে শফিকুলকে যোগাযোগ করতে বলেন। এসময় তিনি কোন উপায়ান্ত না পেয়ে আবার  বাবুল ও মোস্তর কাছে যান। বাবুল ও মোস্ত তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন। এবং টাকা পরিশোধ না করা পযর্ন্ত তালা ঘুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। এদিকে শফিকুলের লাগানো ফসল পানির অভাবে মারা যেতে শুরু করে। কৃষি জমি লিজ নিয়ে সর্বশান্ত হয়ে কৃষক শফিকুল পথে পথে ঘুরছেন। তার লিজ নেওয়া জমি করে ১৫লাখ টাকার ক্ষতির পথে। ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,  বিভিন্ন এনজিও থেকে লোনের টাকা তুলে ১০বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ফলের চাষাবাদ করেছেন। ঐ প্রজেক্টের চাষি মোঃ শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জমির মালিক শিল্প বানিজ্য নগর নওয়াপাড়ার রহমত স্টোর নামে একজন ব্যবসায়ী তিনি ঐ জমি বছরে ১লাখ ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে আমার কাছে ভাড়া দিয়েছে। আমি পূর্বের সমুদয় ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার পরেও আমাকে ঐ জমি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। যে কারণে আমি ন্যায় বিচার চেয়ে একমাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আমার চাষকরা সম্পদ রক্ষা করার জন্য একটি লিখিত আবেদন করি। এবং অভয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করি। থানা পুলিশ বার বার মিমাংসা করার চেষ্টা করলেও ঐ জমির মালিক পুলিশের কোন কথা শুনেনি বা থানায় হাজির হয়নি। অবশেষে গত ৫ মার্চ ঐ ব্যবসায়ী রহমত আলী আমি যাতে ফলজ ও বনজ সম্পদ চাষ করতে না পারি সেই লক্ষে আমার ঐ প্রজেক্টের মিটার কেটে ও ট্রান্সমিটার নিয়ে আসে। যে কারনে আমি গরীব অসহায় কৃষক ব্যাপক বিপদে পড়েছি। সরেজমিনে, ঐ ফলজ চাষাবাদের মধ্যে রয়েছে কলা, পিয়ারা, মালটা খিরাই, লাউ, তরমুজ, লেবুসহ অসংখ্য ফলজ ও বনজ সম্পদ মরে ও নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।  বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা আছে। সেচ পানি বন্ধ আছে। এবিষয়ে জমির মালিক রহমত আলী বলেন, আমি বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন বিষয়ে কিছু জানিনা। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ কতৃর্পক্ষ সব বিছিন্ন করেছে। আমি শফিকুল এর কাছে জমির ভাড়ার টাকা পাব। এবিষয়ে নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর ডিজিএম আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, তিন মাস বিদ্যুৎ বিছিন্ন থাকলে আমরা ট্রান্সমিটার খুলে অন্য জায়গায় দিয়ে দেওয়া হয়।  তাছাড়া ট্রান্সমিটার খোলা হয় না । ভুল যদি হয়ে থাকে আমি দেখবো গ্রাহককে পাঠিয়ে দিন ।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার অফিসার ইনর্চাজ একেএম শামীম হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মিমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিবাদী থানায় হাজির হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন জানান, আমাদের বরাবর কৃষক শফিকুল অভিযোগ দিয়েছিল। এ ব্যাপারে থানার সহযোগিতা নিতে বলেছি।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।