শুক্রবার , ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় অজ্ঞাত রোগের কারনে স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩

আগৈলঝাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হলেও কর্তৃপক্ষের উপেক্ষা
চাপে মুখ খুলছে না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা
অজ্ঞাত রোগের কারনে স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দেরআঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পরলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ায় বর্তমানে চরম আতংকে বিদ্যালয়ে হ্রাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অভিভাবকেরা নিজেদের মতো করে বাচ্চাদের চিকিৎসা করালেও বিদ্যালয়ের চাপে কারো কাছে মুখ খুলছে না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অজ্ঞাত রোগের উপসর্গ সনাক্ত না হওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, চলতি সপ্তাহে রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ক্লাশ চলাকালিন সময়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০জন স্বাভাবিক শিক্ষার্থী কোন পূর্ব উপসর্গ ছাড়াই হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করে ক্লাশে অজ্ঞান হয়ে পরে। তবে শিক্ষার্থীরা চলতি সপ্তাহের আগে থেকেও একইভাবে আক্রান্ত হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। রবিবার অজ্ঞাত রোগে অন্তত ৮জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরেছে। সোম-মঙ্গলবারও একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত ৭-৮জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হবার খবর পাওয়া গেছে। তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই মেয়ে। মেয়েদের অসুস্থতার খবর পেয়ে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপজেলা হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদান করেছেন।

৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি হালদার এর অভিভাবকেরা জানায়, অন্যান্য দিনের মতো স্কুলে গিয়ে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করে শ্রেণি কক্ষেই অজ্ঞান হয়ে পরে জ্যোতি। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তিতে আরও দুবার অসুস্থ হয়ে পরে জ্যেতি। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি মজুমদারও একইভাবে অজ্ঞান হয়ে অসুস্থ হয়ে পরলে তাকেও উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করতে হয়েছে। কোন কোন অভিভাবক নিজেদের সন্তানদের গ্রামের ফকির ও কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাড়-ফুক এর মাধ্যমেও চিকিৎসা করাচ্ছেন।

দিনের পর দিন শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা উপজেলা প্রশাসন বা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবগত না করে উল্টো কারো কাছে ঘটনা না বলার জন্য নিষেধ করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক বরুণ ঘটকসহ অন্যান্য শিক্ষকেরা। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পরলে আতংকে স্কুলে আসছে না শিক্ষর্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বকতিয়ার আল মামুন বলেন, শিক্ষর্থীদের অসুস্থ হবার কোন খবর তাকে জানানো হয়নি। তাকে জানানো হলে অবশ্যই চিকিৎসক টিম পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরুন কুমার ঘটক শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হবার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- দুজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরেছিল। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এসেম্বেলির পরে প্রথম ক্লাশেই অসুস্থ হয়ে পরা শিক্ষার্থীরা অপুষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টির সমস্য কোন ডাক্তারের মতামত কি না জানতে চাইলে তিন বলেন- না, এটা তার ধারনা। স্কুলের ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবদের সাথে মিটিং ডাকা হয়েছে। এর আগেই একটা মিটিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি নিত্যানন্দ মজুমদার বলেন- বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হবার সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯মার্চ) মিটি ডাকা হয়েছে। এর বেশী কিছু তিনি বলতে চান নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার এমন কোন বিষয় তাকে জানানো হয়নি। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।