বুধবার , ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আগৈলঝাড়ায় পৌষ সংক্রান্তিতে লোকজন সংস্কৃতির ২৪৩তম উৎসব পালিত

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

গ্রামীণ বাংলায় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যর ধারক মারবেল খেলা। ছোট বেলায় এই মারবেল খেলেনি বা মারবেল খেলা দেখেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে সেই মারবেল খেলার জন্য যদি নির্দ্দিষ্ট কোন দিন, তারিখ উল্লেখ থাকে সেখানে তো মারবেল খেলায় মেতে ওঠার কথা সকল বয়সী নারী পুরুষেরই। তেমনই শিশু থেকে সকল বয়সী নারী পুরুষেরা মেতে উঠেছে ঐতিহ্যর ধারক মারবেল খেলায়।
পৌষ সংক্রান্তিতে উৎসব উপলক্ষে মারবেল মেলার আসর বসেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দেরআঁক (আউলিয়াপাশা) গ্রামে। আউলিযাপাশা গ্রামের “মা সোনাই চাঁদ আউলিয়া মন্দির” আঙ্গিনায় ২৪৩তম ঐতিহ্যবাহী গোসাই নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মারবেল মেলার আসর বসেছে ওই গ্রামে।
ওই গ্রামসহ আসপাশের কয়েক গ্রামের স্থানীয়-নারী পুরুষসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আত্মীয় স্বজনেরাও এই একটি নির্দ্দিষ্ট দিনের জন্য মেতে উঠেছে মারবেল খেলায়। মারবেল খেলার এই দিনটির জন্যই যেন সারা বছর তাদের অপেক্ষা!
পৌষ সংক্রান্তির গোসাই নবান্ন উৎসবের এই দিনটিকে ঘিরে কয়েক দিন যাবত ওই গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। গ্রামের বাসিন্দাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করা হয় এই বিশেষ দিনের উৎসবে। উৎসব উপলক্ষে বসে এক দিনের মেলা। উৎসবে বাড়তি মাত্রা যোগ করে স্থানীয়দের সাথে আত্মীয়-স্বজন ও মেলায় আগত দর্শনাথীদের মারবেল খেলা। মেলার এলাকায় এমন কোন বাড়ি এবং এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যে এই দিনে তারা মারবেল খেলেনি। নিজেরা মারবেল খেলতে এবং খেলা দেখতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনের মিলন মেলায় লোকে লোকারণ্য হয়েছে মেলা। করোনার কারনে দুই বছর পরে এবছর আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে মারবেল খেলার মেলা।
উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দেরআঁক গ্রামের মা সোনাই চাঁদ আউলিয়া মন্দির আঙ্গিনায় ঐতিহ্যবাহী গোসাই নবান্ন উৎসবকে ঘিরে সংকীর্ত্তন, বৈষ্ণব সেবা, নবান্ন বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ২শ ৪৩ বছর যাবত। গোসাই নবান্ন উৎসব উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবছরও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মারবেল খেলার প্রতিযোগীতা।
শনিবার রাতে শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়ে রবিবার দিনব্যাপি চলে সংকীর্ত্তন। এসকই সাথে রবিবার কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় মারবেল খেলা। চলবে রাত পর্যন্ত। মারবেল খেলা ছাড়াও বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বসেছে ঘর গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পন্যের সমাহারের দোকান।
আয়োজকরা জানান, মারবেল মেলায় আগত খেলোয়ার ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীরের কারণে পূর্বের স্থান মন্দির আংঙ্গিনার আশপাশের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় এ বছর রামানন্দেরআঁক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে মারবেল খেলার।
মেলার আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানও মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মলিনা রানী রায় ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (নিওনেটোলজি) শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান চন্দ্র (বিসি) বিশ্বাস ২৪৩তম গোসাই নবান্ন উৎসব ও মেলার উৎপত্তি সম্পর্কে বলেন, আউলিয়াপাশ গ্রামের ছয় বছর বয়সী সোনাই চাঁদ নামে এক মেয়ের বিয়ের বছর না ঘুরতেই তার স্বামী গেলে শোকাহত বিধবা কিশোরী স্বামীর বাড়িতে একটি নীম গাছের নীচে দেবাদীদেব মহাদেবের আরাধনা ও পূজার্চণা শুরু করে।
ওই কিশোরী সাধনার উচ্চ মার্গে সিদ্ধ হয়ে তার অলৌকিক কর্মকান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পরে। সাধক সোনাই’র জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৭৮০ খ্রিঃ তাঁর নামে ‘সোনাই চাঁদ আউলিয়া মন্দির’ স্থাপন করা হয়। সোনাইর মৃত্যুর পরেও তার স্থাপিত মন্দির আঙ্গিনায় চলে আসছে নাম সংকীর্ত্তন ও নবান্ন উৎসব। ২০১২ সালে মন্দিরটি পুনঃমির্মাণ করা হয়।
অন্যান্য বছরের মতো নবান্ন উৎসবে সোয়া মণ (৫০ কেজি) চালের গুড়ার সাথে সোয়া মণ গুড়, ৫০ জোড়া (১শ পিচ) নারকেল ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য উপকরণ দিয়ে তৈরী করা হয়েছ নবান্ন। মেলায় আগত ভক্ত দর্শণার্থীদের প্রসাদ হিসেবে ওই নবান্ন পরিবেশন করা হয়। আর নবান্ন উৎসবের এই দিনটিতে জমে ওঠে মারবেল খেলার মেলা।
সরেজমিনে বিস্তৃর্ণ এলাকায় দেখা গেছে, মারবেল খেলার আসর। খেরঅয় মেতে উঠেছে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ও শিশুরা। আশপাশের বাড়ির আঙ্গিনায়ও ছিল এই মারবেল খেরার আসর।
থানা ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইন চার্জ মো. মাজহারুল ইসলাম মেলা প্রাঙ্গনে উপস্থিত থেকে জানান, মেলায় আগত ব্যবসায়ি, দর্শনার্থীদের নিরাত্তা প্রদান ও সকল প্রকার বিশৃংখলা প্রতিরাধে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীণ এই মেলাটি গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ধরে রেখেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রাম বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে পরিচিতি করে দিয়ে নারীর টানে মানুষের এই বিরল বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।