বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর রসিক নির্বাচনে নৌকার হারের পর ভেঙে দেওয়া হলো রংপুর জেলা ও মহানগর আ.লীগ কমিটি,
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামানত হারানোয় দলীয় সিদ্ধান্তে ভেঙে দেওয়া হয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি।
(১ জানুয়ারি) রবিবার সন্ধ্যায় গণভবনে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার (১ জানুয়ারী) রাতে এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার উপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, রংপুর মহানগর ও জেলা শাখার বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন।
আহ্বায়ক কমিটিতে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন বকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ আলী এবং রংপুর মহানগর ডা. দেলোয়ার কে আ.লীগের আহ্বায়ক ও আবুল কাশেমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
এ বিষয়ে সদ্য বিলুপ্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রসিক নির্বাচনে যেহেতু দলীয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আমরাও ঐক্যবদ্ধ ছিলাম না। সেকারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এটা করতে পারেন, তার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।
এ বিষয়ে সদ্য বিলুপ্ত রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলের কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, মহানগর ও জেলা কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়টি সঠিক,তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এমন সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানা ছিলনা। তবে জননেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই সঠিক। সম্ভবত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের কারণেই নেত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে আমিরুজ্জামান পিয়াল, ডালিয়াসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭ প্রার্থী হারিয়েছেন জামানত। রসিক নির্বাচনের এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নৌকার ভরাডুবি নিয়ে চলছে নানা ধরণের কথাবার্তা। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো রংপুর সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিয়ে খোটা দিয়ে বক্তৃতায় বিবৃতি দিচ্ছে।তবে এই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টির জন্য সমন্বিতভাবে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করার বিষয়টিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখতে চায় না সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানিয়েছেন, অনেক দিন আগে থেকেই একাধিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে সরব ছিলেন। মিছিল মিটিং থেকে শুরু করে হৈহৈ প্রচারণা করেছিলেন তারা। কিন্তু তাদের কাউকেই মনোনয়ন না দিয়ে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয় যিনি কখনই মাঠে প্রচারণায় ছিলেন না। তিনি সিনিয়র আইনজীবি এবং সংরক্ষিত আসনের এমপি থাকলেও মাঠের রাজনীতিতে তিনি খুব একটা সামনে ছিলেন না। সেকারণে মনোনয়ন ভুল হওয়ার কারণেই মূলত আওয়ামীলীগ জামানত হারিয়েছে। তাছাড়া মনোনিত প্রার্থী নিজেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি গা ছাড়া দিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। এছাড়াও কেন্দ্র থেকে মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামাতে কোন ধরণের উদ্যোগও চোখে পড়েনি। সেকারণেই নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। তাই ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে কমিটি ভেঙ্গে দিলেই সব ঠিক হবে না। মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রত্যাশাকে প্রথম গুরুত্ব দিলে এই কান্ডটি ঘটতো না বলে মনে করেন সুজনের এই নেতা।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া রেকর্ড সংখ্যক ভোটে পরাজিত হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ইং অনুষ্ঠিত রসিক নির্বাচনে, জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে তিনি ১লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) মনোনীত প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন হাতি প্রতিকে ৩৩হাজার ৮৮৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
অপরদিকে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া নৌকা প্রতিকে ২২ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত মেয়রের চাইতে তিনি ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৯২ ভোট কম পান। নির্বাচন বিধি অনুয়ায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।