যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট থেকে প্রেমবাগসহ ভৈরব নদের ওপার আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে কয়লা-বালুর ড্যাম্প। কয়লার বিষাক্ত গ্যাস ও বালির ধুলায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ। সবসময়ই বাতাসের সঙ্গে ধুলাবালি ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।মহাসড়ক, নদীর পাড় ও রেলপথের পাশে এবং উপজেলার শংকরপাশা দেয়াপাড়া ভৈরব সেতুর পাশে আবাসিক এলাকায় জুড়ে বালু ও কয়লার ড্যাম্প (বালুর স্তূপ) গড়ে তোলা হয়েছে। এসব বালুর ধুলা ও কয়লার বিষাক্ত গ্যাসে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বসতবাড়ি ঘিরে ও কৃষি জমিতেও বালু ও কয়লা ড্যাম্প করে রাখা হয়েছে। এসব বালুর ধুলা ও কয়লার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবসতির দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কয়লার ডিপো করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কয়লার স্তূপে উঁচু দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখার বিধানও রয়েছে। কিন্তু নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাংগুল দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা চালিয়ে যাচ্ছে কর্মকান্ড। ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিনিয়িত ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদে কয়লার ও বালুর ধুলা পড়ছে। এমনকি ধুলা পড়া খাবারও খেতে হচ্ছে তাদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, কয়লার ডিপো সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার আলীপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাসায়নিক এই কয়লার বিষাক্ত ধুলা ও ধোঁয়ায় তার পরিবারের প্রায় সবাই শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মাস্ক ব্যবহার করেও রোগ থেকে বাঁচতে পারছেনা। নওয়াপাড়া বাজারের কয়লা ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, উত্তরা ট্রেডার্স, নওয়াপাড়া ট্রেডার্স, শেখ ব্রাদার্স, মাহাবুব অ্যান্ড ব্রাদার্স, জয়েন্ট ট্রেডিং, সাহারা এন্টারপ্রাইজ, মোশারফ অ্যান্ড ব্রাদার্স, সরকার ট্রেডার্সসহ প্রায় ১৮/২০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ কয়লা নওয়াপাড়া বাজারে আমদানি করে তা অন্যত্র বিক্রি করে থাকে। আমদানি করা কয়লা প্রথমে জাহাজ থেকে নামিয়ে ভৈরব নদের পাশে রাখা হয়। পরবর্তীতে মহাসড়ক, রেলপথ ও আবাসিক এলাকাসহ খোলা আকাশের নিচে ড্যাম্প করে রাখা হয়। তারপর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনে তা ট্রাকে লোড করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান। অন্যদিকে ভাঙ্গাগেট থেকে প্রেমবাগ পযন্ত যশোর- খুলনা মহাসড়কের দুইপাশে গড়ে উঠা বড়ো বড়ো বালির ড্যাম্পের কারণে মহাসড়কে মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাস গাড়ির যাত্রীদের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়ে। এযেনো অঘোষিত নির্জাতনের শিকার সাধারণ মানুষ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোলা আকাশের নিচে রাসায়নিক এই কয়লা-বালির ড্যাম্প করায় মহাসড়ক, নদীপথ ও রেলওয়ের দুই পাশে থাকা গাছগুলো মারা যাচ্ছে। কয়লার কারণে সবসময়ই বাতাসের ধুলা ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া কয়লার পোড়া দুর্গন্ধে নওয়াপাড়ার বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মাঝে-মধ্যে কয়লার স্তূপে আগুনের কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা যায়। প্রভাবশালীরা এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও এর কোনো পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। বালু ও কয়লার গ্যাসের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, বালু ও কয়লার গ্যাস ও ধোঁয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যত্রতত্র কয়লা রাখার জন্য শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসজনিত সমস্যা নিয়ে এলাকার অনেক রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে।