মঙ্গলবার , ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নাগরপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষা অফিসার জিএম ফুয়াদ এর পরিচলনায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইকবাল হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছামিনা বেগম শিপ্রা, নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন, বীর প্রতীক বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বীর প্রতীক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী, যুদ্ধকালীন কোম্পানী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ (হুমায়ুন বাঙ্গাল), বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আশরাফুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোকাদ্দস আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজায়েত হোসেনসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দিবসটি উপলক্ষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা প্রশাসন।

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলার সূর্য সন্তানরা পাকিস্থানি বাহিনীর কবল থেকে নাগরপুর উপজেলাকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। এদিন জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো উপজেলা। নাগরপুরের মানুষ মুক্তির স্বাদ পায়। যুদ্ধকালীন এ দিনে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার খবর দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সীমিত কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে মুক্তিবাহিনীর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক বাহিনী গড়ে উঠে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী অন্যতম। কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সে সময় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী যুদ্ধের শুরু থেকে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেয়। সারা দেশের মতো হানাদারদের দ্বারা ¶ত-বি¶ত টাঙ্গাইলের সর্বদক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন নাগরপুরকে শত্রুমুক্ত করতে কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও চূড়ান্ত সফলতা পেতে সময় লাগে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর উপজেলার কেদারপুরে প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নাগরপুর থানা আক্রমণের জন্য সমবেত হয়। খবর পেয়ে হানাদার বাহিনী দুটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ করে তাদের এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। পিছু হটে মুক্তিবাহিনী। পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে নাগরপুর থানা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে।

অবশেষে ৯ ডিসেম্বর কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হুমায়ুন বাঙ্গাল, রবিউল আলম, সাইদুর রহমান, সবুর খান ও বাতেন বাহিনীর কয়েকটি কোম্পানির যৌথ আক্রমণে পাক হানাদারদের বেশ কয়েকটি ট্যাংক ধ্বংস করে। এ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত পাক সেনা নিয়ে হানাদার বাহিনী নাগরপুর ছেড়ে পালিয়ে যায়। নাগরপুর থানা স্থায়ীভাবে হানাদার মুক্ত হয়। সেদিন নাগরপুরবাসী ৯ মাসের দুঃখ বেদনা মুহূর্তেই ভুলে সমস্বরে জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।