ঝালকাঠি সদরের নবগ্রাম মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রিফাতা মোতালিব মুনার বিরুদ্ধে অবৈধ পরকিয়া সম্পর্কে জড়িত হয়ে এক নারীর সংসার ভাংগার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৩০ নভেম্বর) ভূক্তভুগী গৃহবধূ সিমা আক্তার তার স্বামী সাহাদাত হোসেন নোবেলকে ঐ শিক্ষিকার হাত থেকে রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিশু পুত্র সিজদা ইবনে সাহাদাতসহ গৃহবধূর ভরনপোষন না দেয়া ও ৫লাখ টাকা যৌতুক দাবীর অভিযোগে তিনি স্বামী নোবেলের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা (নং ৩১৪/২০২০ (ঝাল) দায়ের করেছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভূক্তভুগী গৃহবধূ সিমা আক্তারের স্বামী দোগলচিরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিএম ইউনুস আলীর পুত্র সাহাদাত হোসেন নোবেল। প্রায় এক বছর ধরে তাকে ফুসলিয়ে নবগ্রাম মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রিফাতা মোতালিব মুনা অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যার কারনে তার বৈবাহিক জীবনে চরম অশান্তি সৃষ্টি হলে শিশুপুত্রকে নিয়ে তিনি অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে গৃহবধূ ও তার অভিভাবকরা শিক্ষিকা মুনাকে বহুঅনুরোধ করলেও সে কর্নপাত না করায় নিরুপায় হয়ে অত্র অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে মামলার বিবরনে জানাযায়, ২০১৫সালে সিমা আক্তারের সাথে দুবাই প্রবাসী সাহাদাত হোসেন নোবেলের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ৩বছর পর তাদের ঘরে এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়। হঠাৎ করোনা মহামারির সময়ে স্বামী নোবেল ফোন করে স্ত্রীকে কর্মহীন ও দেনাগ্রস্থ হয়ে পরার বিষয় জানিয়ে দেশে চলে আসার কথা বলে। এরপর দেশে ফিরে স্ত্রীকে শ্বশুরের কাছ থেকে ৫লাখ টাকা এনে দিতে বলে। কিন্তু শ্বশুর টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে সে স্ত্রী-সন্তানকে শ্বশুর বাড়ী ফেলে রাখে। এরপর যোগাযোগ করলে সে তাকে তালাক দিয়ে আরো বেশী টাকা নিয়ে বিয়ে করার ঘোষনা দিলে সিমা আক্তার ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয় নবগ্রাম মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রিফাতা মোতালিব জানায়, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ভিত্তিহীন ও সম্মানহানীকর। অভিযোগকারী নোবেলের তালাক দেয়া স্ত্রী। এক বছর আগে পারিবারিক ভাবে তার সাথে আমার বিয়ে হয়। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র আমার কাছেও আছে আর আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে সাহাদাত হোসেন নোবেলের পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিএম ইউনুস আলী জানায়, নোবেল বিদেশ থেকে আসার এক দিন পরেই স্ত্রী সিমা আক্তার তার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দেয়। গত দু’বছরে বহুচেষ্টা করে তাকে ও তার মামা বাদশা মল্লিককে বুঝানোর চেষ্টা করেও থামানো যায়নি। এরপর আমার ছেলে তাকে তালাক দিয়েছে। এখোন আদালত যে সিদ্ধান্ত দেয় তাই মেনে নিতে হবে।
মঙ্গলবার , ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি