প্রেমিকাকে বিয়ের লিখিত চুক্তিপত্র ভঙ্গ করায় প্রেমিকের বাড়িতে এসে ফের অনশন করে আত্মহত্যার চেষ্টা চাীলয়েছে সাথী মন্ডল (২০) নামের এক তরুনী। ঘটনাটি বরিশালের পৌরসভার চরগাধাতলী মহল্লার। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তরুনী প্রেমিক সঞ্জয়ের বাড়িতে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। এ নিয়ে তিনবার ওই তরুনী প্রেমিক সঞ্জয়ের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করেছেন। অনশরত তরুনী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কালাইরচর গ্রামের নরেশ চন্দ্র মন্ডলের মেয়ে।
ওই তরুনীর ভাই বিপ্লব মন্ডল বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রধরে আমার বোন সাথী মন্ডলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে গৌরনদী পৌরসভার চরগাধাতলী মহল্লাহর সত্য নারায়ণ দত্তের ছেলে সঞ্জয় দত্তের সাথে। একপর্যায়ে মন্দিরে গিয়ে শাখা-সিঁদুর পড়ে তারা বিয়েও করেন। গত ১৯ অক্টোবর স্ত্রীর দাবীতে সঞ্জয়ের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করে সাথী। পরবর্তীতে সাথীকে রেজিষ্ট্রি বিয়ে করার জন্য সঞ্জয়ের কাছে প্রস্তাব করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনশ’ টাকার ষ্ট্যাম্পে বিয়ের হলফনামা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন সঞ্জয়। স্বাক্ষী হিসেবে স্থানীয় ১৫ জন ব্যক্তি ওই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর সঞ্জয়ের বাড়ি থেকে চলে যায় সাথী। চুক্তিপত্র অনুযায়ী বিয়ের দিন ধার্যছিলো গত ১০ নভেম্বর।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, সাথী ওই বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সঞ্জয়। এরপর পূনরায় সঞ্জয়ের বাড়ীতে এসে অনশন শুরু করে সাথী। এসময় এক সপ্তাহের মধ্যে সাথীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয় সঞ্জয়ের পরিবার। সেই আশ্বাস পেয়ে সাথী পূনরায় বাড়ি ফিরে যায়। পরবর্তীতে এক সপ্তাহ পার হলেও সঞ্জয়ের পরিবার কোন যোগাযোগ না করায় বুধবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে সঞ্জয়ের বাড়ীতে এসে তৃতীয়বার অনশন শুরু করেছে সাথী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই তরুনী প্রেমিক সঞ্জয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে প্রেমিক সঞ্জয় পলাতক থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।