তথ্য-প্রযুক্তির এযুগে প্রত্যন্ত গ্রামেও যখন অনেক আগেই মোবাইল ফোন কোম্পানি সমূহের ফোর-জি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে, ইন্টারনেট সেবার বিস্তৃতি ঘটেছে, নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন ইন্টারনেট সেবা গ্রহিতারা, ঠিক তখনো সেই সেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হচ্ছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সেবা প্রত্যাশীরা।
জানা গিয়েছে, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা মীরগঞ্জ বাজার ও এর উত্তর ও পশ্চিমাংশের বামনজল গ্রামের বাতাপাড়া, চাচিয়া মীরগঞ্জ(বালাপাড়া), সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাব এবং এর পাশের দোকানগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট সেবা মিলছে না গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ চলে গেলে আরো বিঘ্নিত হচ্ছে সেই সেবা। গ্রামীণ ফোন, ইস্কিটো, রবি ও বাংলালিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ফোর-জি ও ফাইভ-জি সাপোর্ট করে এমন ফোন ব্যবহার করেও কাঙ্খিত ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, বাসা-বাড়ি ও অফিসের ভিতর মাঝে মাঝেই বিঘ্নিত হচ্ছে এসেবা। সেবা গ্রহীতাদের ভাষ্য, নেট আনতে বার বার এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করে ফোর-জি আনতে হচ্ছে। তাও আবার হারিয়ে যাচ্ছে মূহুর্তেই। এভাবে আর কত দিন? যেহেতু ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হলেই ডাটা কেটে নিচ্ছেন মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো, তাই ডাটার যাতে সদ্ব্যবহার করা যায় সেজন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবার প্রত্যাশা করছেন তারা।
সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বুলু বলছেন, প্রেসক্লাবে বসে কাজ করতে হয় সব সময়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আমার গ্রামের বাসায় যেভাবে ইন্টারনেটের গতি পাচ্ছি, সেভাবে প্রেসক্লাবে বসে পাচ্ছি না। পাশের দোকানগুলোতেও ওই একই অবস্থা- বলছিলেন মোশাররফ হোসেন।
সাংবাদিক এম এ মাসুদ বলছেন, পৌরসভার চাচিয়া মীরগঞ্জে(বালাপাড়া) আমার বাসা। কিন্তু কষ্টটা হলো- ঘরের ভিতর, বারান্দা এমনকি বাড়ির উঠানেও কাঙ্খিত ইন্টারনেট সেবা মিলছে না। এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করতে করতে বিরক্ত। ই-মেইল পর্যন্ত পাঠানো যায় না। করোনা কালে মেডিকেল কলেজ বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাসও করতে পারেনি বড় ছেলে। রবি ব্যবহার করতাম। নেট সমস্যার জন্য মাইগ্রেট করে গ্রামীণে গিয়েছি। তারপর দীর্ঘদিন ইস্কিটো ব্যবহার করেছি। এক বন্ধুর পরামর্শে বাংলালিংক ব্যবহার করেছি। ফলাফল, যেই লাউ, সেই কদু অবস্থা। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীণ ফোনে অভিযোগ করেছি। ফোর-জি ইন্টারনেট এবং এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলেও ইন্টারনেট সেবায় যে বিঘ্ন ঘটছে তা জানিয়েছি।অভিযোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ পরদিন জানিয়েছেন, সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। সেই সমস্যা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সমাধান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই কর্তৃপক্ষ- বলছিলেন তিনি।
তবে আশার কথা হলো, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত দশটার পর থেকে চাচিয়া মীরগঞ্জ(বালাপাড়া)-য় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রয়েছে।
ত্রয়ী ওষুধ ফার্মেসীর মালিক ফুয়াদ হোসেন সরকার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পেয়ে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে গ্রামীণ ফোন কাস্টমার কেয়ার ব্যবস্থাপকের সাথে কথা হলে তিনি জানান,”অভিযোগটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আমরা অভিযোগকারীকে সরাসরি ফোনে জানিয়ে দিব।”